দ্রুতগতিতে দুর্বল হচ্ছে আটলান্টিকের স্রোত

0
45
ছবি সৌজন্যে : সোশ্যাল মিডিয়া

আটলান্টিক মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ স্রোতব্যবস্থা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে।নতুন গবেষণা বলছে, এটি অবসান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের যে মডেলগুলো স্রোতের গতি ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, গবেষণায় সেগুলোই এখন আরও বেশি বাস্তবসম্মত বলে প্রমাণিত হচ্ছে।এই ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ এই স্রোত থমকে গেলে ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন,আমক হলো পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী একটি প্রধান ব্যবস্থা। এটি বিশ্বজুড়ে উষ্ণ ও শীতল জল প্রবাহিত করে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। জলবায়ু সংকটের কারণে এটি এরই মধ্যে গত ১ হাজার ৬০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ২০২১ সালে বিজ্ঞানীরা এর বিপজ্জনক সীমায় পৌঁছানোর প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করেছিলেন। অতীতে পৃথিবীতে এই স্রোত ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।এদিকে ভবিষ্যতের জলবায়ু বুঝতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেন। কিন্তু এই জটিল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এসব মডেলের ফলাফল ভিন্ন ভিন্ন। কিছু মডেল বলছে, ২১০০ সালের মধ্যে এটি আর ধীর হবে না। আবার কিছু মডেল বলছে, এটি প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ধীর হয়ে যেতে পারে। এমনকি জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে শূন্যে নামালেও এই ধীরগতি হতে পারে।এই আমক স্রোত উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের গরম জল ইউরোপ ও সুমেরু অঞ্চলে নিয়ে যায়। সেখানে জল ঠাণ্ডা হয়ে নিচে নেমে যায় এবং ফিরতি পথে গভীর স্রোত তৈরি করে। এই প্রক্রিয়া বিশ্বজুড়ে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এই প্রক্রিয়া ভেঙে পড়লে উষ্ণমণ্ডলীয় বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আসবে,যার ওপর লাখ লাখ মানুষের খাদ্য উৎপাদন নির্ভরশীল।

এর ফলে পশ্চিম ইউরোপে চরম শীত ও গ্রীষ্মকালীন খরা দেখা দেবে। পাশাপাশি আটলান্টিক উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার বেড়ে যেতে পারে।