
এখন সামাজিক পটভূমির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কাজের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ছুটির দিনেও অফিস করা লাগে অনেক সময়।
কিন্তু কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপের ক্লান্তি বা বার্নআউট একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।হতাশা বা বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি, স্বাস্থ্যের ক্ষয় এবং মানসিক ক্লান্তি হলো এই উদ্বেগের কিছু লক্ষণ।অন্যদিকে,আমাদের সমাজে প্রায়শই ধৈর্য ও ক্রমাগত কাজ করে চলার ক্ষমতাকে মহিমান্বিত করা হয়, ফলে মানুষ চাপের প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করে। বিশ্রামকে প্রয়োজনের পরিবর্তে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখে।ওদিকে,মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সামাজিক লজ্জার কারণে মানুষ সঠিক সময়ে সাহায্য চায় না, যা বার্নআউটকে ক্রমাগত বাড়িয়ে তোলে। এই বার্নআউট প্রতিরোধের জন্য একটি সম্মিলিত ও সক্রিয় পদ্ধতির প্রয়োজন। এই অবস্থায় এমন কিছু কৌশল রয়েছে,যা প্রতিষ্ঠান ও কর্মীকে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করছেন।বর্তমানে কাজের চাপ, ডেডলাইন বা কাজ শেষ করার সময়সীমা, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজের অগ্রগতি ইত্যাদিসহ কারো কাজের অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। কর্মনিষ্ঠা ভালো, কিন্তু নিজের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি এবং ওভারলোড আর তার থেকে জন্ম নেওয়া হতাশা প্রতিরোধে সহায়তা করে।একজনের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে স্পষ্ট সীমানা স্থাপন মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি রোধ করতে সাহায্য করে।এই জায়গায় বিশ্রাম ও ঘুমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।পর্যাপ্ত ঘুম মনোযোগ দিতে এবং আরো শক্তি পেতে সাহায্য করে, যা উৎপাদনশীলতা ও ভারসাম্য বৃদ্ধি করে। নিয়মিত ধ্যান, যোগব্যায়াম বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মনকে শান্ত করতে এবং চাপের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে।পাশাপাশি,বন্ধুবান্ধব, পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর মেলামেশা মানসিক সমর্থনের জায়গা প্রদান করে।এছাড়া,নিয়মিত ব্যায়াম মেজাজ ঠিক রাখে, শক্তির মাত্রা ও চাপ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য কাউন্সেলর, থেরাপিস্ট বা চিকিৎসকদের কাছ থেকে থেরাপি নিতে উৎসাহিত করা উচিত।
পাশাপাশি দরকার,কর্মক্ষেত্র, স্কুল ও সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করা উচিত এবং প্রয়োজনে সহায়ক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা উচিত।চিকিৎসাগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বার্নআউট প্রতিরোধের মধ্যে কেবল নিজের কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা নয়,বরং নিজের মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি করাও জড়িত।আরো সহানুভূতিশীল ও সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে দূরে সরে এসে ভারসাম্যের দিকে, নীরবতা থেকে সমস্যার কথা বলার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।








