চাকরিপ্রার্থীদের বচসা-ধুন্ধুমার, বিভিন্ন ভূমিকায় মুখ্যমন্ত্রী 

0
113
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 
শহিদ মিনারে যোগ্য চাকরিহারাদের রাতভর অবস্থান-র পর, নেতাজি ইন্ডোরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় ঢোকার পাসের জন্য বচসা-হাতাহাতি থেকে শুরু করে ব্যাগ ছিনতাই দিনভর নজিরবিহীন একাধিক ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা।
নেতাজি ইন্ডোরে ঢুকতে চেয়ে শহিদ মিনার থেকে মিছিল করে পৌঁছনোর পর সেখানে উপস্থিত যোগ্য-অযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে কার্যত হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে পুলিশকে। নবান্ন থেকে যোগ্য পাস কে কি ভাবে পেয়েছে এবং তার বৈধতা কি তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে চাকরিহারাদের মধ্যে। নবান্ন থেকে যে পাস দেওয়া হয়েছে বলে চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, তাতে লেখা আমরা যোগ্য। এই পাস নিয়েই হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নেতাজি ইন্ডোরের সামনে। অনেকের কাছ থেকে ওএমআর শিট কিংবা নিয়োগপত্রের প্রতিলিপি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোরে চাকরিহারাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন।তবে, মঞ্চের পিছনে নজিরবিহীনভাবে নেই কেন ব্যানার বা নেই কোনও পোস্টারও। নীল-সাদা কাপড়ে মোড়া নেতাজি ইনডোরের মঞ্চে তখন কখনও প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে চাকরিহারাদের চাকরি ফেরানোর বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেছেন, কখনও বা আবার চাকরিহারাদের প্রতিনিধিদের মঞ্চে ডেকে নিয়ে সেরে নিয়েছেন ছোট্ট করে আলাপ-আলোচনাও। আবার একইভাবে নেতাজি ইন্ডোরে উপস্থিত চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে শিক্ষাকর্মীদের অভয় দিয়েছেন রাজ্য লড়াইয়ে সঙ্গী হবে বলে। আর এই নেতাজি ইন্ডোরে চাকরিহারাদের বৈঠক শুরু করে গোটা বিষয়টায় একা হাতে সামলাতে দেখা গিয়েছে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে। কার্যত ম্যানেজারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে গোটা বিষয়টা রাজ্যের মুখ্যসচিব ও শিক্ষা দফতরের সচিবের সঙ্গে সামলেছেন তিনি। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের শেষ অংশে চাকরিহারাদের একাংশ যখন ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন, ঠিক তখনই স্বভাবসিদ্ধ ভূমিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী চাকরিহারাদের উদেশ্যে বলেছেন, তিনি কি করবেন বা কি করবনে না, আগামীতে লড়াইয়ের পথটা কি হবে, একইসঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে বুঝিয়ে দিয়েছেন ধৈর্য্য ধরার কথা চাকরিহারাদের।