
মানব ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্বপ্রাগৈতিহাসিক ভ্রমণে বের হয়েছিলেন আদি এশীয়রা। উত্তর এশিয়া থেকে দক্ষিণ আমেরিকার একেবারে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত ২০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন তারা।আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দল বলছে,এ বিস্ময়কর যাত্রা হাজার হাজার বছর ধরে হয়েছিল এবং আধুনিক প্রযুক্তির আগে মানুষের দীর্ঘতম অভিবাসন ছিল এটি।
গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছে সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি বা এনটিইউ-এর গবেষকরা। গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল সায়েন্স-এ।গবেষণাটি জিনোমএশিয়া১০০কে প্রকল্পের অংশ, যেখানে ১৩৯টি জাতিগোষ্ঠীর এক হাজার পাঁচশ ৩৭ জন মানুষের ডিএনএ বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা।এর মাধ্যমে তারা খুঁজে বের করতে পেরেছেন আদি মানুষের অভিবাসনের বিভিন্ন পথ।আদি এশিয়দের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল আফ্রিকা থেকে,যেখানে মানুষের প্রথম আবির্ভাব হয়েছিল। সেখান থেকে তারা উত্তর এশিয়া হয়ে যাত্রা করে ও শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় বর্তমান আর্জেন্টিনার তিয়েরা দেল ফুয়েগো এলাকায়।এ অঞ্চলটি পৃথিবীতে মানব অভিবাসনের শেষ সীমান্ত বা শেষ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।গবেষকরা বলছেন,এ প্রাচীন যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। হাজার হাজার বছর আগে পৃথিবীর ভূমির গঠন ছিল একেবারে ভিন্ন এবং কিছু কিছু অঞ্চল ছিল বরফের সেতু দিয়ে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।বলা হচ্ছে,আদি মানুষের পক্ষে পায়ে হেঁটে বিশাল এই দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি সম্ভব করেছিল বরফের এসব সেতু, যা এখন জলের মাধ্যমে আলাদা হয়ে গিয়েছে।
গবেষণায় উঠে এসেছে,প্রাচীন মানুষ প্রায় ১৪ হাজার বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পশ্চিমে পানামা আর কলম্বিয়া যেখানে মিলিত হয়েছে, সেখানে এসে পৌঁছেছিল।এ প্রবেশপথ থেকে সেই আদি মানুষদের দল চারটি প্রধান পথে ভাগ হয়ে যায়। কিছু মানুষ অ্যামাজন অঞ্চলে থেকে যায়, কেউ পূর্ব দিকে শুকনো চাকো এলাকায় চলে যায় আর অন্যরা দক্ষিণে পাতাগোনিয়ার বরফাচ্ছন্ন এলাকায় যাত্রা করেছিল।









