
প্রতিদিনের রান্নায় রসুন অন্যতম এক অপরিহার্য উপাদান। খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি এটি শরীরে একাধিক উপকারিতা এনে দেয়। রসুনে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরের প্রদাহ কমায় এবং ভাইরাসজনিত সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রক্তে শর্করার মাত্রা , সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতেও অনেকে রসুনের সাহায্য নিচ্ছেন। বিভিন্ন গবেষণা ও মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, খালি পেটে কাঁচা রসুন খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। আসলে রসুনে মূলত অ্যালিসিন নামের একটি প্রাকৃতিক সালফার যৌগ থাকে, যা ইনসুলিনের নিঃসরণ ও কার্যকারিতা বাড়িয়ে সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।তবে আস্ত রসুনে সরাসরি অ্যালিসিন পাওয়া যায় না। গোটা রসুনে থাকে অ্যালিন নামের একটি উপাদান। রসুন যখন থেঁতো করা বা বাটা হয়, তখন এর অ্যালিনেজ নামক উৎসেচক সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং অ্যালিনকে অ্যালিসিনে রূপান্তরিত করে। গবেষকদের মতে, রসুনের সিংহভাগ স্বাস্থ্যগুণের পেছনে এই অ্যালিসিনের ভূমিকাই প্রধান। ওদিকে, রসুন চিবিয়ে বা কাঁচা খাওয়ার ক্ষেত্রে এর তীব্র গন্ধ অনেকের কাছেই অসহ্য লাগে। তবে কিছু সঠিক নিয়ম মেনে চললে এর পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া সম্ভব। যেমন থেঁতো করে রাখুন, কাঁচা রসুন থেঁতো করে বা কুচি করে কাটার পর অন্তত ৫ মিনিট এভাবেই রেখে দিন। এতে উপকারী ‘অ্যালিসিন’ যৌগটি তৈরি হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পায়। যারা কাঁচা খেতে পারেন না, তারা থেঁতো করা বা কাটা রসুন রান্নায় মিশিয়ে খেতে পারেন। তবে রান্নার আগেও কাটার পর কিছুক্ষণ বাতাসে রেখে দেওয়া ভালো। রসুন উচ্চ তাপমাত্রায় বেশিক্ষণ রান্না করা উচিত নয়। এতে এর উপকারী গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হলো, দিনে কতটা রসুন খাবেন? সাধারণতঃ রসুন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও যত বেশি, তত ভালো,এই নিয়ম রসুনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ১ থেকে ২ কোয়া রসুন খাওয়াই যথেষ্ট। প্রয়োজনের অতিরিক্ত রসুন খেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। এতে অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এছাড়া, যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন কিংবা যাদের দ্রুত অস্ত্রোপচার সার্জারি হওয়ার কথা রয়েছে, তাদের ডায়েটে রসুনের পরিমাণ বাড়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখা জরুরি, রসুন ডায়াবেটিসের কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, এটি কেবল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।








