
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে রাশিয়ার সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় কিভের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের নির্দিষ্ট ৭০টি লক্ষ্যে ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান হামলা চালিয়েছিল রুশ ফৌজ।
পরবর্তী ধাপে শুরু হয়েছিল স্থলপথে অভিযানও। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের পূর্বাভাস ছিল, কয়েক মাসের মধ্যেই পরাস্ত হবে ইউক্রেন। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির বাহিনী টানা চার বছর ধরে যে ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা দেখে চমকে গিয়েছেন অনেকেই। ২০২২ সালের মে মাসে উত্তর ও পূর্ব ইউক্রেনের জ়াপোরিঝিয়া, খারকিভ, ওডেসা-সহ বিভিন্ন এলাকার দখল নিয়েছিল রাশিয়া। কিন্তু ২০২৩ সালে শীতের পর তার বড় অংশই পুনর্দখল করেছিল আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের সাহায্যপুষ্ট জ়েলেনস্কির বাহিনী। বর্তমান পরিস্থিতি বলছে পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস, ডনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলকে একত্রে এই নামে ডাকা হয়, অঞ্চলের বড় অংশ রুশ বাহিনীর কব্জায় থাকলেও মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপে কিভের প্রতিরক্ষাবলয় এখনও মজবুত। ফলে আপাতত নির্ণায়ক জয়-পরাজয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই। অনিশ্চয়তার এই আবহেই বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৫৬৯তম দিনে পা দিয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।
ইতিহাস বলছে, ইতিমধ্যেই মেয়াদের নিরিখে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে পিছনে ফেলে দিয়েছে পুতিনের ইউক্রেন অভিযান। বসনিয়ায় আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ডের জেরে ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই অস্ট্রিয়া এবং হাঙ্গেরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল সার্বিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনাই ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা। তার ৪ বছর ৩ মাস অর্থাৎ, ১ হাজার ৫৬৪ দিন পরে, ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের কমপিয়েঁতে মিত্রবাহিনীর কাছে জার্মানি এবং তার সহযোগীদের আত্মসমর্পণের পরে শেষ হয়েছিল মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধ।
