
সাম্প্রতিক সময়ে থাইরয়েডের রোগীর সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। এই রোগ হলে মোটা হয়ে যাওয়া, খিদে না লাগা, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পড়ার মতো নানা সমস্যা দেখা যায়। ভালো খাওয়াদাওয়া আর নিয়মিত জীবনযাপন থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
অনেকের ক্ষেত্রে এই থাইরয়েডের সমস্যা থেকে ক্যান্সারও হতে পারে।তাই এই রোগ হলে সাবধান হতে হবে।এখন প্রশ্ন হল থাইরয়েডে আক্রান্তরা কিভাবে সচেতন থাকবেন। এখন সবাই জানেন,থাইরয়েড গ্রন্থি গলার সামনের দিকে থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় বাইরে থেকে এর অবস্থান বোঝা যায় না।গলার সামনে হাত দিলে কোনো গোটাও অনুভব করা যায় না। থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে তখনই গলার সামনে ফোলা কিংবা গোটাজাতীয় কোনো কিছুর উপস্থিতি অনুভব করা যায়।এ রকম অস্বাভাবিক কিছুর উপস্থিতি মানেই কিন্তু টিউমার বা ক্যান্সারজাতীয় কিছু নয়। ফোলা বা গোটাজাতীয় কিছু হলেই যে অস্ত্রোপচার করতে হবে, তা-ও না।অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া কিংবা এখানে কোনো গোটা থাকার কারণ কিন্তু টিউমার বা ক্যান্সার নয়,অন্য কোনো কিছুও হতে পারে।তবে থাইরয়েডে এমন কোনো অস্বাভাবিকতা অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ওদিকে থাইরয়েড দেহের সব বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।সার্বিক সুস্থতার জন্যই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রথমে এই গোটা বা ফোলার কারণ নির্ণয় করা হয়।প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক গোটাটিকে পরীক্ষা করে দেখার সময়ই একটা ধারণা পেয়ে যান, এটি ক্যান্সারজাতীয় কিছু কি না। তবে ক্যান্সার সন্দেহ হলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য এফএনএসি করাতে হবে। এফএনএসি নির্দিষ্ট সুইয়ের সাহায্যে কোষ নিয়ে পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি। আর থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা নির্ণয় করতে আলাদা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়।উল্টোদিকে,থাইরয়েডের টিউমার সাধারণত দু’ ধরনের হয়ে থাকে।একটি নিরীহ ধরনের টিউমার, অন্যটি ক্যান্সার।ক্যান্সারের আবার কয়েকটি ধরন থাকে।থাইরয়েড ক্যান্সারের সঙ্গে তেজস্ক্রিয়তার সম্পর্ক রয়েছে। শৈশবে তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে এলে থাইরয়েড ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।অন্যদিকে,থাইরয়েড ক্যান্সার দেশের পরিচিত একটি সমস্যা। থাইরয়েডে ক্যান্সার ধরা পড়লেই ভেঙে পড়বেন না।মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখুন।দেশেই এর চিকিৎসা সম্ভব। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা গেলে বেশির ভাগ ক্যান্সারই সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। তাই চিকিৎসা করতে দেরি করবেন না।অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রন্থি সম্পূর্ণ ফেলে দেওয়া হলে পরে থাইরয়েড হরমোনের ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হয় প্রতিদিন।
কিন্তু ক্যান্সারের চিকিৎসা করানো না হলে তা মারাত্মক জটিল আকার ধারণ করতে পারে,এমনকি হয়ে উঠতে পারে জীবননাশেরও কারণ। থাইরয়েড গ্রন্থির পুরোটাই ফেলে দিতে হবে কি না, সে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয় রোগীর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে।
