
টানা কম্পিউটারে কাজ, মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা কিংবা টিভি দেখা দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটছে স্ক্রিনের সামনে। অনেক সময় তো চোখের পলক ফেলতেও ভুলে যাই আমরা।
এর ফলে চোখে তৈরি হতে পারে ক্লান্তি ও শুষ্কতা। চোখ যেন শুকিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এতে চোখ থাকবে সতেজ ও আরামদায়ক। চোখের শুষ্কতা ও ক্লান্তি এড়াতে যা করবেন,স্ক্রিনের ব্রাইটনেস ও কনট্রাস্টে সামঞ্জস্য রাখুন।কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় স্ক্রিনের আলো যেন চোখের জন্য আরামদায়ক হয়, সে দিকে খেয়াল রাখুন।পাঠ উপযোগী ব্রাইটনেস সেট করুন,পাঠযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য স্ক্রিনের আলো এমনভাবে ঠিক করুন, যেন চোখে চাপ না পড়ে।বড় ফন্ট ব্যবহার করুন,বড় ফন্টে কাজ করলে চোখের ওপর চাপ কম পড়ে।পাশাপাশি,চোখের ক্লান্তি দূর করতে নিয়মিত বিরতি নিয়ে চোখ বিশ্রাম দিন।সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে অন্তত ২০ বার করে চোখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন।সেইসঙ্গে,চোখ ধোয়ার পরে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে চোখ থাকবে স্নিগ্ধ ও হাইড্রেটেড। আন্ডার আই ক্রিম ব্যবহার রাতে ঘুমানোর আগে আন্ডার আই ক্রিম ব্যবহার করলে চোখের নিচের কালচে ভাব কমে।চোখের হালকা ব্যায়াম করুন,কম্পিউটারে কাজ করার ফাঁকে চোখ বন্ধ করে আস্তে আস্তে খুলুন, তারপর চারদিকে তাকিয়ে দৃষ্টি ঘোরান।এর বাইরে,দু’হাতের তালু ঘষে গরম করে চোখের বন্ধ পাতার ওপর ১০ সেকেন্ড রাখুন। এতে চোখ শিথিল হয়।সানগ্লাস বা চশমা ব্যবহার করুন,সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ও ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে বাইরে গেলে চশমা ব্যবহার করুন।একটানা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে না থেকে মাঝে মাঝে চোখের পাতা ফেলুন। এতে চোখ স্বাভাবিকভাবে পিচ্ছিল ও সতেজ থাকে।এর বাইরে ঘরোয়া পদ্ধতিতে আরাম পেতে পারেন।চোখের নিচের কালি দূর করতে আলু বা শসা গ্রেট করে ১০ মিনিট চোখের ওপর রাখুন।দেহে জলের ঘাটতি চোখে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত জল পান করুন।খাদ্যতালিকায় রাখুন গাজর, ডিমের কুসুম, কলিজা, দুগ্ধজাত খাবার ইত্যাদি।
তবে চোখে যদি অতিরিক্ত শুষ্কতা, জ্বালা বা কোনো অসুবিধা দেখা দেয়, তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। চোখ নিয়ে অবহেলা নয়।
