
বর্তমানে অনেক বাড়ি, রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড দোকানে আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক দশকে খাবারের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে স্থূলতার সমস্যাও বেড়েছে।
তাদের মতে, মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারে না যে তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলছে। বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশক থেকে আমেরিকায় খাবারের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। গবেষকদের মতে, বাইরে খাওয়ার প্রবণতা বাড়া এবং রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে এই পরিবর্তন এসেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেস্তোরাঁগুলো বেশি পরিমাণ খাবার দিয়ে ক্রেতা আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। যদি একটি দোকান কম পরিমাণ খাবার দেয় আর অন্যটি বেশি দেয়, তাহলে বেশিরভাগ মানুষ বড় পরিমাণ দেওয়া দোকানটিকেই বেছে নেয়। আগে খাবারের দাম তুলনামূলক কম ছিল। তাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সামান্য বেশি দামে দ্বিগুণ খাবার দিয়ে গ্রাহকদের ভালো অফার- এর অনুভূতি দিত। এতে ক্রেতারা খুশি হতো, আবার ব্যবসার লাভও বাড়ত। তবে শুধু উন্নত দেশ নয়, বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশেও এখন একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন বেশি দেখা যায় প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে। ঐতিহ্যবাহী খাবারে সাধারণত এমন অতিরিক্ত পরিমাণ দেখা যায় না। এদিকে, বিশ্বজুড়ে আমেরিকান ধাঁচের খাদ্যসংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়াও এর একটি কারণ। ম্যাকডোনাল্ডের মতো আন্তর্জাতিক ফাস্টফুড ব্র্যান্ড অন্যান্য দেশে জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের আকারও বড় হয়েছে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে মানুষ অজান্তেই অনেক বেশি ক্যালরি গ্রহণ করে ফেলতে পারে। কখনো কখনো তা অতিরিক্ত ৫০০ ক্যালরি পর্যন্তও হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, খাবারের পরিমাণ যত বাড়ে, মানুষ সাধারণত তত বেশি খায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পরিমাণ দ্বিগুণ হলে মানুষ গড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি খেয়ে ফেলে। পাশাপাশি, মানুষ সবসময় নিজের শরীরের সংকেত বুঝতে পারে না। অনেক সময় আমরা খুব বেশি ক্ষুধার্তও থাকি না, আবার পুরোপুরি পেট ভরাও থাকে না। এই মাঝামাঝি অবস্থায় মানুষ প্লেটে যতটুকু খাবার দেখে, সেটাকেই খাওয়ার পরিমাণ হিসেবে ধরে নেয়। অন্যদিকে, একসময় ধারণা ছিল, ছোট প্লেট ব্যবহার করলে মানুষ কম খাবে। কারণ ছোট প্লেটে কম খাবারও বেশি মনে হয়। কিন্তু গবেষণায় এর পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই শুধু প্লেট ছোট হলেই কাজ হয় না। মূল বিষয় হলো অতিরিক্ত খাবার হাতের কাছে আছে কি না। খাবার সামনে থাকলে মানুষ আবারও তুলে খেতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার প্লেটে নিয়ে বাকিটা দূরে সরিয়ে রাখতে। এতে দ্বিতীয়বার খাবার নেওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।এছাড়া,খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের খিদে সম্পর্কে সচেতন থাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষ খাওয়ার সময় বুঝতেই পারেন না তারা আসলে কতটা খাচ্ছেন। মানুষ অনেক সময় শুধু প্লেটের খাবারের দিকে তাকায়, কিন্তু নিজের শরীরের চাহিদার দিকে খেয়াল করে না। তারা খিদে পেয়েছে কি না বা পেট ভরেছে কি না, সেটিও অনেক সময় বুঝতে চেষ্টা করে না। আবার,বিশেষজ্ঞরা পোর্শন ডিস্টরশন বা খাবারের পরিমাণ নিয়ে ভুল ধারণার কথাও বলছেন।
অর্থাৎ, দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণ খাবার দেখতে দেখতে মানুষ সেটাকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়। সেইসঙ্গে,প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার আগে লেবেল ভালোভাবে দেখা উচিত। সেখানে সাধারণত কতজনের জন্য খাবারটি তৈরি, সেটি উল্লেখ থাকে। অনেক মানুষ মনে করেন তারা অল্প খাবার খাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তারা প্যাকেটে উল্লেখ করা নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি খেয়ে ফেলছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার মেপে নেওয়া, লেবেল পড়া এবং নিজের খিদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া- এই তিনটি অভ্যাস অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।







