গ্রাম থেকে শহর
News & Much More

31 C
Kolkata
31 C
Kolkata
More
    Home Editorial মোদিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের

    মোদিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের

    0
    853
    ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।আগামী সপ্তাহে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এর আগে ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    এর এক সপ্তাহ পর ২৭ জানুয়ারি মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। সেদিন অভিবাসন নিয়ে আলোচনা করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ভারতের দিক দিয়ে আমেরিকার তৈরি আরও নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনা এবং অবাধ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দেন তিনি।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের কথা জানিয়ে এক্স পোস্টে মোদী লিখেছিলেন, তাঁর ঐতিহাসিক দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা পারস্পরিক উন্নয়ন এবং বিশ্বস্ত অংশীদারির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।জনগণের কল্যাণে এবং বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য একসঙ্গে কাজ করবেন।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্তরেও সম্পর্ক বেশ মসৃণ। প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ট্রাম্পের শেষ বিদেশ সফর ছিল ভারতে। ২০১৬-২০ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প বারে বারেই মোদীকে বন্ধু বলেছেন। ২০১৯-এর সেপ্টেম্বরে টেক্সাসের হিউস্টনে ছিল হাউডি মোদী সভা। সেখানে প্রায় ৫০ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও প্রবাসী ভারতীয়ের সামনে কূটনীতির বেড়া টপকে,অব কি বার ট্রাম্প সরকার স্লোগান দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। বলেছিলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বগুণ, আমেরিকাকে নিয়ে ওঁর আবেগ, দেশের নাগরিকদের জন্য ওঁর উদ্বেগ এবং আমেরিকাকে ফের মহান করে তোলার জন্য ওঁর মনের তাগিদ তাঁকে অনুপ্রাণিত করে।

    এরপর,২০২০-র ফেব্রুয়ারিতে দু’দিনের ভারত সফরে এসে গুজরাতের মোতেরায় নরেন্দ্র মোদীর নামাঙ্কিত পুনর্নির্মিত ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উদ্বোধনে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তৎকালীন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া। সেখানে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েতে মোদী দাবি করেছিলেন, তিনি এবং ট্রাম্প মিলে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবেন।২০২০-র অগস্টে প্রেসিডেন্টপদে পুনর্নির্বাচন চেয়ে ট্রাম্পের আরও চার বছর,ফোর ইয়ার মোর প্রচারের সূচনায় ভিডিয়ো ক্যাম্পেনিং-এ তুলে ধরা হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প- নরেন্দ্র মোদীর সেই যৌথ জনসভার নানা ক্লিপিংস।এ বারও প্রেসিডেন্ট ভোটের প্রচারে ট্রাম্পের মুখে শোনা গিয়েছে বন্ধু মোদীর নাম। দুই রাষ্ট্রনেতার এই সমীকরণ নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কে নতুন মাত্রা আনবে বলে মনে করা হয়।

    অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বার ক্ষমতায় আসার পর বেশ কিছু নীতি গ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে অন্যতম হল আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দেখা হবে, তার পরে অন্য দেশের কথা বিবেচনা করা হবে। এই নীতির নাম আমেরিকা ফার্স্ট। সেই লক্ষ্যের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপও করতে শুরু করেছে তাঁর সরকার। অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বিতাড়ন,ডিপোর্ট করতে শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সেই তালিকায় অনেক ভারতীয়ও রয়েছেন। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। কোনও অবৈধ অভিবাসীর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি পেলে ভারত তাঁদের ফিরিয়ে নেবে বলেও জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    এর মধ্যে চীনকে মোকাবিলায় আমেরিকার কৌশলগত অংশীদার ভারত। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী নয়াদিল্লি। নিজেদের নাগরিকদের জন্য আমেরিকার দক্ষ শ্রমিক ভিসা প্রাপ্তিও সহজতর করতে তৎপর ভারত সরকার।এছাড়া আমেরিকায় আমদানি করা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের যে হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে দিয়েছিলেন, তা–ও এড়াতে চায় ভারত। নতুন মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর এরই মধ্যে চীন, মেক্সিকো ও কানাডার ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি,ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার আমেরিকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ১১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    এদিকে,কেন্দ্রীয় বাজেটের পর ফের চাঙ্গা শেয়ার বাজার। সেনসেক্স এবং নিফটি-৫০ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ এবং ৪০০ পয়েন্ট। ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কাজের দিনেই মোটা টাকা লাভের মুখ দেখলেন লগ্নিকারীরা। বাজারের এই বুলিশ ট্রেন্ড-এর নেপথ্যে একাধিক কারণের উল্লেখ করেছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।দাবি, বাজারে পুঁজির অঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৬ লক্ষ কোটি টাকা। এর জন্য আমেরিকা ও চিনের মধ্যে শুরু হওয়া শুল্ক যুদ্ধকেই দায়ী করেছেন তারা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেজিঙের পণ্যের উপরে ১০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন। পাল্টা আমেরিকার পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছে ড্রাগন।আর্থিক বিশ্লেষকদের অনুমান, আমেরিকা-চিনের শুল্ক যুদ্ধে আগামী কয়েক দিন অস্থির থাকবে বাজার।