
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের যে একচ্ছত্র আধিপত্য, তাতে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধ, বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ওপর ক্রমাগত আক্রমণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে।
এর ফলে দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে ডলারের যে মর্যাদা ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। আমেরিকার এই ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকটের সুযোগে বিশ্ববাজারে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করে নিচ্ছে চীনা মুদ্রা ইউয়ান। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ঋণের বোঝা যখন ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ও ইরানের মতো দেশগুলোর ওপর চড়াও হওয়ার প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করছে।ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ভ্যালেরি গিসকার্ড ডি’এস্তাই ষাটের দশকে ডলারের এই প্রভাবশালী অবস্থানকে অত্যধিক সুবিধা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের চেষ্টার মতো ঘটনাগুলো সেই সুবিধাকেই হুমকির মুখে ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ সবচেয়ে সম্মানিত হলেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমালোচনা এর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে। এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে চীনের সরকারি বন্ডগুলো বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ডলারের ওপর থেকে বিশ্বের নির্ভরতা কমলে সেটি শেষ পর্যন্ত ইউয়ানকে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির পরবর্তী বড় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়ের সংকেত দিচ্ছে।
