
দীর্ঘ দিন ধরে চলা ইরান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কেবল আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষা ও সহায়তার লক্ষ্যেই এই যুদ্ধ শুরু করেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের ক্রস হল থেকে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেলের ওপর আমেরিকা এখন আর নির্ভরশীল নয়, তবুও শুধুমাত্র বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর অনুরোধে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটন এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে দাবি করেন,যুদ্ধের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জনের পথে রয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে পাথর যুগে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী,কুয়েত ও বাহরাইনের মতো মিত্রদের ধন্যবাদ জানালেও ওমানের নাম এড়িয়ে যান। উল্লেখ্য, ওমান একমাত্র উপসাগরীয় দেশ যারা এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একইসঙ্গে,ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন আমেরিকার মূল লক্ষ্য ছিল না বলে দাবি করলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও আলী লারিজানির মৃত্যুর ফলে কার্যত সেই পরিবর্তন ঘটে গেছে। বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে না আসায় ইরানে এক ধরনের নেতৃত্বহীনতা বিরাজ করছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী বর্তমানে পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত।
এদিকে যুদ্ধকালীন আমেরিকায় তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে উদ্বেগের বিপরীতে প্রেসিডেন্ট দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক এবং আমেরিকান অর্থনীতি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তিনি আরও জানিয়েছেন,ইরান যাতে যুদ্ধের পর ঘুরে দাঁড়ানোর সামান্য সুযোগ পায়, সেজন্য দেশটির তেলক্ষেত্রগুলোতে এখনো কোনো হামলা চালানো হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বাস, সংঘাত শেষে হরমুজ প্রণালী প্রাকৃতিকভাবেই উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং ইরান নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থেই তেল বিক্রিতে আগ্রহী হবে। তবে এই যুদ্ধ ঠিক কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
