
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ও প্যালেস্টাইনিদের স্থায়ীভাবে অন্য দেশে পুনর্বাসিত করার ইচ্ছা প্রকাশের পর বিশ্বনেতারা তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
গাজা পুনর্গঠন করে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা বানানোর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিম্ময়কর প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং মার্কিন মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।গাজা উপত্যকার শাসক গোষ্ঠী হামাস ট্রাম্পের প্রস্তাবকে আগুনে ঘি ঢালা বলে মন্তব্য করেছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, প্যালেস্টাইনি জনগণ কখনোই কোনো দেশকে তাঁদের ভূমি দখল করতে বা তাঁদের ওপর অভিভাবকত্ব চাপিয়ে দিতে দেবে না।প্যালেস্টাইনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক বিবৃতিতে আব্বাস ও প্যালেস্টাইনি নেতৃত্ব গাজা দখল ও প্যালেস্টাইনিদের বাস্তুচ্যুত করার প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেছেন, প্যালেস্টাইনের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না।ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে তার পরিকল্পনা ঘোষণার সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন,এটি এমন একটি বিষয়, যা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত এবং গাজার ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ ইতিহাস বদলে দিতে পারে।ইসরায়েলের চরমপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ পরে বলেছেন, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাকে চিরতরে কবর দেওয়া হবে।রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রধান ফিলিপো গ্রান্ডি ট্রাম্পের বক্তব্যকে অত্যন্ত বিস্ময়কর বলেছেন। তিনি বলেছেন, এই প্রস্তাব কী বোঝাতে চায়, তা স্পষ্ট নয় এবং এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করা কঠিন।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, চীন সবসময় বিশ্বাস করে, প্যালেস্টাইনি শাসনের অধীনে গাজা পরিচালিত হওয়া উচিত।ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গাজা কোনো তৃতীয় পক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। তারা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।তুরস্ক ট্রাম্পের প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলেছে।মিসর, প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, গাজার শাসন তাদের হাতেই থাকা উচিত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তি বলেছেন, গাজার পুনর্গঠন জরুরি, তবে কোনো প্যালেস্টাইনিকে বাস্তুচ্যুত করা যাবে না। আর,ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন,প্যালেস্টাইনিদের অবশ্যই গাজায় ফিরতে দিতে হবে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানই সঠিক পথ।
