
তুলসীকে মহৌষধি বলা হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার মতো বিশেষ গুণ রয়েছে এই উদ্ভিদের।
এটি সর্দি-কাশি, জ্বর, হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো শ্বাসযন্ত্রের রোগ থেকে দেহকে রক্ষা করে। এমনকী বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকেও শরীরকে বাঁচায়। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই ভেষজ। এদিকে,তুলসী বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিরাপদ। তবে যাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ভেষজটি হিতে বিপরীত হতে পারে। এখন প্রশ্ন হল,কোন কোন ক্ষেত্রে তুলসী ক্ষতি করতে পারে শরীরের? উত্তর হল তুলসী রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু অতিরিক্ত খেলে এটি ইনসুলিনের মতো কাজ করে শর্করাকে দ্রুত কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয়।এর ফলে মাথা ঘোরা, ঘাম ও অত্যধিক দুর্বলতা দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে রোগীর বড় ধরনের বিপদ ঘটে যেতে পারে। এদিকে পরিমিত পরিমাণে তুলসী হজমশক্তি বাড়ালেও, অতিরিক্ত সেবনে কিছু ক্ষেত্রে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।আবার অতিরিক্ত তুলসী খেলে হরমোনের উপর প্রভাব পড়ে। বিশেষত,এটি কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন কমায়। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এমনকী পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে তুলসী সেবনের ফলে অ্যালার্জি দেখা দেয়। অতিরিক্ত সেবনে অ্যালার্জি দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অ্যালার্জির লক্ষণ হিসেবে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তুলসী মিণ্ট পরিবারের উদ্ভিদ, তাই এই পরিবারের উদ্ভিদে অ্যালার্জি থাকলে আগেভাগে সতর্ক হোন। এছাড়া রক্ত পাতলা করার মৃদু ক্ষমতা রয়েছে তুলসীর। এর প্রধান কারণ হল তুলসীতে থাকা কিছু যৌগ, যেমন ইউজেনল।
এই যৌগ রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। তাই যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তবেই তুলসী খান।








