বর্ণবাদ ও লিঙ্গবৈষম্য শিখছে এআই

0
28
ছবি সৌজন্যে : এক্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি মানুষের চেয়েও স্মার্ট হয়ে উঠছে, ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তিবিদদের এমন দাবির মাঝেই এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে রাষ্ট্রসংঘ।

সংস্থাটির একটি নতুন রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়েছে,মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মানুষের ভেতরের কুৎসিত ও বৈষম্যমূলক মানসিকতাও হুবহু রপ্ত করছে এআই।ইউএন উইমেনের ডিজিটাল প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান জয়থমা বিক্রমানায়েকে জানিয়েছেন, এটি প্রযুক্তির কোনো ত্রুটি বা, বাগ নয়,বরং ইন্টারনেট জগতে গত কয়েক দশক ধরে মানুষের লেখা কোটি কোটি টেক্সট ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করেই এআই নিজেকে তৈরি করেছে। ফলে মানব ইতিহাসের দীর্ঘদিনের কুসংস্কার, পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যমূলক উপাদানগুলো এআই নিজের ভেতর ধারণ করে তা নতুনভাবে ফিরিয়ে দিচ্ছে।রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে,মহিলারা এমনিতেই অনলাইনে নানাভাবে হেনস্তার শিকার হন,আর এখন এআই আসার ফলে তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ছড়ানো আরও সহজ হয়ে উঠেছে। ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া মহিলা মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের প্রতি চারজনের একজন এআই-সহায়তায় তৈরি অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ শতাংশের ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই শেয়ার করা হয়েছে এবং ৬ শতাংশ মহিলা ডিপফেক বা বিকৃত ছবির মাধ্যমে সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন।কেবল লিঙ্গবৈষম্যই নয়, গবেষণায় এআই সিস্টেমগুলোর মধ্যে মারাত্মক বর্ণবাদের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে, যা সমাজে বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীকে নিয়ে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এআই তৈরির শুরু থেকে তার পরিচালনা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে মহিলা অধিকার ও সমতার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। প্রযুক্তি বিশ্বে যখন মানুষের বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়গান গাওয়া হচ্ছে, তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কীভাবে এআই-কে মানুষের এই আদিম ও কুৎসিত অভ্যাসগুলো শেখা থেকে দূরে রাখা যায়।