
এখন দিনভর কাজের চাপ, মানসিক চাপের পর রাতে আট ঘণ্টা ঘুম হলেই শরীর-মন সতেজ হয়ে যাবে, এমনটা অনেকেই মনে করেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ঠিকমতো ঘুমানোর পরও অনেক সময় সকালে উঠেই শরীর ভারী লাগে, মন থাকে অবসন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের পরিমাণ নয়, আসল বিষয় হলো ঘুমের গুণমান।অর্থাৎ শুধু অনেকক্ষণ ঘুমালেই চলবে না,ঘুমটা হতে হবে গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন।অনেকেই সময়মতো ঘুমালেও ঘুমের মান ভালো না হওয়ায় শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ কাজ করে। আসলে,রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে ঘুমের গভীর স্তরে পৌঁছানো যায় না, ফলে ঘুম পরিপূর্ণ হয় না। অন্যদিকে,স্লিপ অ্যাপনিয়া,এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে ঘুমের সময় শ্বাস কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঘুম বারবার ভেঙে যায় আর সকালে উঠে ক্লান্তি, মাথা ব্যথা বা ঝিমুনি দেখা দেয়। পাশাপাশি চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংকে থাকা ক্যাফেইন ঘুমের গুণমান কমিয়ে দেয়। রাতে ঘুম আসতেও দেরি হয়। এছাড়া,মোবাইল, ট্যাব বা টিভির পর্দা থেকে বের হওয়া নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, যা ঘুম আসার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।এর বাইরে প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঘুমাতে যাওয়া বা ঘুম থেকে ওঠা শরীরের বডি ক্লককে এলোমেলো করে দেয়।এই অবস্থায়,নিয়মিত ঘুমের রুটিন মেনে চলুন–প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান, একই সময়ে উঠুন।স্ক্রিন টাইম কমান–ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, ট্যাব বা টিভি থেকে দূরে থাকুন। ঘুমানোর পরিবেশ ঠিক করুন–ঘর যেন ঠাণ্ডা, অন্ধকার ও নিরিবিলি হয়। সেইসঙ্গে হালকা রাতের খাবার খান–তেল-মসলা বা ভারী খাবার রাতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন–সন্ধ্যার পর এসব পানীয় ঘুমে সমস্যা তৈরি করে।
আর মন শান্ত রাখুন–ঘুমানোর আগে বই পড়া, হালকা ব্যায়াম বা মেডিটেশন করতে পারেন।সব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি আপনি প্রতিদিন সকালে ক্লান্ত অনুভব করেন, ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা বা শ্বাস বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। কারণ স্লিপ অ্যাপনিয়া বা অন্য ঘুমবিষয়ক জটিলতা আপনার অজান্তেই শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে।








