
সকালে ঘুম থেকে উঠেই বমি ভাব বা বমি পাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত। অনেকে ভাবেন, না খেয়ে থাকার জন্যই হয়তো এমন হচ্ছে। আবার কেউ একে হালকা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু নিয়মিত সকালে এই সমস্যা হলে তা শরীরের ভেতরের কোনো অস্বস্তির ইঙ্গিতও কিন্তু হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, সকালে বমি পাওয়ার পেছনে একাধিক শারীরিক কারণ থাকতে পারে।যেমন রাতভর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে পেট প্রায় খালি থাকে। এই অবস্থায় পাকস্থলীতে এসিড নিঃসরণ বন্ধ হয় না। খালি পেটে অতিরিক্ত এসিড জমে গেলেই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বমি ভাব, বুক জ্বালা বা বমির অনুভূতি তৈরি হতে পারে।বিশেষ করে যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে সকালে এই উপসর্গ বেশিমাত্রায় দেখা যায়। ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ উঠে বসা বা ঝুঁকে পড়লেও অ্যাসিড ওপরে উঠে এসে অস্বস্তি বাড়াতে পারে।আবার,ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলের ঘাটতিও সকালে বমি পাওয়ার বড় কারণ। রাতে ঘুমের সময় দীর্ঘক্ষণ জল না খাওয়ার ফলে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে।ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা এবং বমি ভাব দেখা দেয়। বিশেষ করে আগের দিন খুব কম জল খেলে বা অতিরিক্ত চা-কফি পান করলে সকালে এই সমস্যা বেশি বাড়ে।অন্যদিকে সকালে বমি পাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো, হরমোনের পরিবর্তন।গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে অনেক মহিলার মর্নিং সিকনেস থাকে, যার অন্যতম লক্ষণ হলো সকালের দিকে বমি ভাব।এই সময় শরীরে এইচসিজি হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে, যা পাকস্থলী ও মস্তিষ্কের মধ্যে যোগাযোগে বিরাট প্রভাব ফেলে।তবে শুধু গর্ভাবস্থাতেই নয়, থাইরয়েডের সমস্যা বা হরমোনাল ভারসাম্যহীনতাও সকালে বমি পাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।ঘুমের মানও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেয়। রাতে খুব দেরিতে ঘুমানো, অপর্যাপ্ত ঘুম বা অনিয়মিত স্লিপ সাইকেলের জন্য শরীর যথেষ্ট বিশ্রাম পায় না।এর প্রভাব পড়ে হজমতন্ত্র আর স্নায়ুতন্ত্রে। ফলে সকালে উঠে শরীর ঠিকঠাক সাড়া না দিলে বমি পাচ্ছে,এমন মনে হতে পারে।দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ বা উদ্বেগের মধ্যে কাটালেও সকালে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।এই সমস্যা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই অল্প উষ্ণ জল পান করা জরুরি।
একেবারে খালি পেটে খুব ঝাল বা ভারী খাবার না খেয়ে হালকা কিছু দিয়ে দিন শুরু করা উচিত। রাতে ঘুমানোর অন্তত দু’ ঘণ্টা আগে খাবার খেয়ে নেওয়া এবং খুব তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাও প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত পর্যাপ্ত জল পান করাও শরীরের জলশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।








