
পোশাকি নাম টারডিগ্রেড। তবে এক মিলিমিটারেরও কম দৈর্ঘ্যের আটপেয়ে প্রাণীগুলি বেশি পরিচিত ওয়াটার বেয়ার বা,জল ভালুক নামে। কেউ কেউ বলেন শেওলা শূকরছানা। মনে করা হয়, যত দিন না সূর্য থাকবে, তত দিন বেঁচে থাকবে এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণীগুলি।
পৃথিবীতে টারডিগ্রেড-এর প্রায় ১৫ শো পরিচিত প্রজাতি রয়েছে।তবে সেগুলির মধ্যে ভাল ভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়েছে মাত্র কয়েকটিকে নিয়ে।এর মধ্যেই টারডিগ্রেডের নতুন একটি প্রজাতি নজর কে়ড়েছে বিজ্ঞানীদের। মনে করা হচ্ছে, যে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী, তার থেকে প্রায় এক হাজার গুণ বেশি বিকিরণ সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে এই আটপেয়ে অবিনশ্বর’দের।বিজ্ঞানীরা টারডিগ্রেডের নতুন এই প্রজাতির জিনোম সিকোয়েন্স করে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন। এর পর এই ক্ষুদ্র জীবকে নিয়ে আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।সায়েন্স পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, এমন হাজার হাজার টারডিগ্রেড জিন চিহ্নিত করা হয়েছে যেগুলো তেজস্ক্রিয় বিকিরণের সংস্পর্শে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।ফলে গবেষকেরা মনে করছেন,টারডিগ্রেডের জিন এতটাই অত্যাধুনিক যে, তাতে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।বিকিরণ ঘটায় এমন ক্ষতি থেকে ডিএনএকে রক্ষা করে সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।গবেষকদের আশা,টারডিগ্রেডের ওই প্রজাতি নিয়ে গবেষণা করে মহাকাশ অভিযানের সময় মহাকাশচারীদের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে রক্ষা করা যেতে পারে।একই সঙ্গে পারমাণবিক দূষণ রোধ এবং ক্যানসারের মতো মারণরোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এই জীব।উল্লেখ্য, চরম পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকার ক্ষমতার জন্য বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, জল ভালুকেরা পৃথিবীর অবিনশ্বর প্রাণী।
১৭৭৩ সালে জার্মান প্রাণীবিদ জোহান অগাস্ট এফ্রাইম গোয়েজ প্রথম জল ভালুকদের বর্ণনা দিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম আট পায়ের এই প্রাণীদের জল ভালুক বলে সম্বোধন করেছিলেন।
