
২০২১ সালে ইউনেস্কোর একটি রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে কয়েক মিলিয়ন মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ইতিমধ্যেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষকরা বলছেন, শীতসহ শুষ্ক সিজনে মেয়েদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।অনেক পরিবার টিকে থাকার লড়াইয়ে মেয়েদের ঘরে বসিয়ে রাখা বা অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার বাইরে আর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছে না।হিসাব অনুযায়ী, এই অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ জল সংকটে ভুগছে। মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাসিক ও নান্দুরবার জেলার খরা-প্রবণ গ্রামগুলোতে দিন দিন কুয়ো শুকিয়ে যাচ্ছে এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে পরিবারগুলোকে হতে হচ্ছে কঠিনতর জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি। পুরুষরা কাজের সন্ধানে কাছাকাছি শহরে চলে যাওয়ায়, মেয়েদেরই জল সংগ্রহের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। এই দৈনন্দিন কাজটি করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়। ফলে কাজ শেষ হওয়ার পর স্কুলে যাওয়ার সময় থাকে না। রাষ্ট্রসংঘের শিশু তহবিলের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, খরাপ্রবণ এলাকায় বসবাসরত শিশুদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কারণ তারা জল সংগ্রহের দায়িত্বে থাকে। এ সময়টায় জল কম থাকায় ও দূষিত হওয়ায় সংগ্রহেও বেশি সময় লাগছে।
উল্লেখ্য,জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারতজুড়ে অনেক মেয়ের জন্যই জল সংগ্রহের মতো সাধারণ কাজটিই হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকা ও শিক্ষা গ্রহণের মধ্যকার বড় বাধা। সম্প্রতি এমনি কিছু মেয়ের গল্প বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় শেফালি রফিকের ফটোগ্রাফি সিরিজে। ছবিগুলো ২০২৫ সালের ,মারাই ফটো গ্রান্ট-এ পুরস্কারের জন্যও নির্বাচিত হয়। পুরস্কারটি দক্ষিণ এশিয়ার ২৫ বছর বা তার কম বয়সী আলোকচিত্রীদের জন্য।








