
বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মা-বাবাই নিজের চাকরি-ক্যারিয়ার নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত থাকেন। আর এই সময়ে সন্তান পরিবারকে সময় দিতে পারেন না বলে ভরসা গৃহপরিচারিকায়। তাই সন্তান না পায় বন্ধু, আর না পায় মা-বাবার সান্নিধ্য। যার ফলে অনেক সময় শিশুরা একাকিত্বে ভোগে।
হাজার ব্যস্ততার মাঝে মা-বাবা নজর এড়িয়ে যায় সন্তানের এসব বিষয়। শুধু শারীরিক সুস্থতার দিকেই খেয়াল রাখেন তারা। কিন্তু সঠিক অভিভাবকত্বে শিশুর মন ভালো আছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাই শিশুর মন ভালো আছে কি না, তা জানতে প্রতি রাতে করুন কয়েকটি প্রশ্ন।প্রথম প্রশ্ন,সারা দিনে তুমি কী করেছো? শিশু সারা দিন স্কুলে কী করল, বন্ধুদের সঙ্গে কী করল, কী খেলা করল,সেসব জানার চেষ্টা করুন। এর ফলে জানতে পারবেন শিশু সারা দিনে কী করল, আর কী করল না। এতে আপনার সঙ্গে সন্তানের বন্ধন আরো দৃঢ় হবে।দ্বিতীয় প্রশ্ন ,তুমি আজ কোনো কারণে দুঃখ পেয়েছ কি না।শিশুরা কখনো কখনো তাদের মনের কথা মুখে প্রকাশ করতে চায় না। তাই তাদের জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন। শিশুর থেকে জানতে চান, কোনো কারণে সে দুঃখ পেয়েছে কি না, কিংবা কারো ওপর রেগে গেছে কি না। এই প্রশ্নের ফলে শিশুর সঙ্গে রাগ, দুঃখ-সহ নানা আবেগ নিয়ে কথা বললে সম্পর্ক আরো শক্তপোক্ত হবে। সে বুঝতে পারবে সমস্যায় পড়লে আপনি তার পাশে অবশ্যই থাকবেন।তৃতীয় প্রশ্ন,আজকে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার পরিবর্তন সে চায় কি না। শিশুকে জিজ্ঞাসা করুন, আজ তার সঙ্গে ঘটা কিছু পরিবর্তন করতে চায় কি না। তাতে আপনি বুঝতে পারবেন তার কিছু খারাপ লেগেছে কি না। এই প্রশ্নের ফলে শিশুর মধ্যে মন্দ-ভালোর বিভাজন ক্ষমতা জন্মাবে।চতুর্থ প্রশ্ন,আগামীকাল সে কী করতে চায়। শিশুর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে সে মনে মনে একটি রুটিন তৈরি করবে। তাতে তার মধ্যে দিনলিপি তৈরির প্রবণতা তৈরি হবে। এই প্রশ্নের ফলে সে প্রাথমিকভাবে ছকে নিতে পারবে আগামীকাল কী কী করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সূচিও স্থির করতে পারবে।
পঞ্চম প্রশ্ন,তুমি কি মনে করছো, আমরা ব্যস্ত বলে তুমি অবহেলিত? এই প্রশ্নের জবাবে শিশু তার মনের কথা খুলে বলতে শিখবে। উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে তাকে কিছুটা সময় দিন।বোঝান আপনাদের চাকরি ঠিক কতটা প্রয়োজন। আর যদি উত্তর না দেয়, তবে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা নেই। এই প্রশ্নের ফলে শিশুর মনে আপনার সম্পর্কে ঠিক কী ধারণা রয়েছে, সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন।








