ছাড়া হচ্ছে না আলাপনকে, মোদীকে চিঠি মমতার

0
14
অতিমারী করোনা এবং ঘূর্ণিঝড় যশ বিধ্বস্ত অবস্থায় রাজ্য সরকার মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য যে ছাড়ছে না, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
একই সঙ্গে কলাইকুণ্ডার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ওই বৈঠকের জেরেই কি রাজ্যের মুখ্যসচিব রোষানলে পড়েছেন? আর এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বাংলা এবং মানুষের কথা কেন্দ্র সরকারের চিন্তা করা উচিত ছিল। সোমবার সকাল দশটায় দিল্লিতে কর্মিবর্গ দফতরে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র সরকার। কিন্তু রাজ্য সরকারের সম্মতি না মেলায় তিনি দিল্লিতে কাজে যোগ দেননি। এই অবস্থায় সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী করোনা মহামারী এবং ঘূর্ণিঝড় যশের কথা তুলে ধরেছেন। বলেছেন, করোনার প্রকোপ এবং যশের তাণ্ডবে রাজ্য যখন জেরবার, সেই সময়ে মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভাবে একতরফা। এ বিষয়ে রাজ্যের সঙ্গে কোনও কথাই বলা হয়নি মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, অথচ মুখ্যসচিবকে বদলির নির্দেশের মাত্র দু’দিন আগে রাজ্যের আবেদনের ভিত্তিতে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যকালের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় রাজ্যের আবেদনে কেন্দ্র সহমত হলেও, কেন এভাবে মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হল, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেনে এনেছেন কলাইকুণ্ডার বৈঠকের প্রসঙ্গ। বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনের কর্মসূচি তাঁর আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে আসার কর্মসূচি হঠাৎ ঠিক হওয়ায়, তিনি তাঁর সফরসূচি কাটছাঁট করে মুখ্যসচিবকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার আগে, সাংবিধানিক প্রোটোকল মেনে রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র প্রধানমন্ত্রীকে বিমান বন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদীকে লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী কলাইকুণ্ডার বৈঠকে রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। প্রধানমন্ত্রী – মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে রাজ্যপাল কিংবা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতির প্রয়োজন ছিল না বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাতেও তাঁর আপত্তি ছিল না। এরপরই নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীর উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, বিরোধী দলের সাধারণ একজন বিধায়ক সেখানে কীভাবে হাজির থাকতে পারেন? প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে সাংবিধানিক পদ ছাড়া সাধারণ একজন বিধায়ক আদৌ থাকতে পারেন কি না, সেই প্রশ্ন তুলে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রয়োজনের এই সময়ে রাজ্য সরকার মুখ্যসচিব পদে থাকা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়বে না। বর্ধিত মেয়াদে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব পদেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় কাজ করবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা চিঠিতে সাফ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।