গাজা যুদ্ধে কী পেলো ইসরায়েল

0
857
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

চুক্তিতে মধ্যস্থতাকা রী দেশ কাতার জানিয়েছে, রবিবার সকাল থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক্স পোস্টে বলেছেন, চুক্তির পক্ষ এবং মধ্যস্থতাকারীদের সমন্বয়ে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ১৯ জানুয়ারি রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮:৩০ মিনিটে শুরু হবে। তিনি বলেছেন, বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বন করার, সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার এবং সরকারি সূত্রের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে যুদ্ধবিরতি শুরুর সঠিক সময়টি স্পষ্ট ছিল না।যদিও ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা পণবন্দী এবং বন্দী বিনিময় চুক্তি অনুমোদন করেছে। ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়ে প্যালেস্টাইনের ৭৩৭ জন বন্দী এবং আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হবে।অন্যদিকে, প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস বলেছে, গাজায় তাদের কাছে বন্দী ইসরায়েলি পণবন্দীদের মুক্তির প্রক্রিয়া নির্ভর করবে ইসরায়েল কতজন প্যালেস্টাইনি বন্দীকে মুক্তি দেবে তার উপর।এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের সাথে তাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলী অনুসারে বিনিময়ের একদিন আগে মুক্তিপ্রাপ্ত প্যালেস্টাইনি বন্দীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এদিকে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা শনিবার ভোরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। যার ফলে এই সপ্তাহান্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে দিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য প্যালেস্টাইনিদের অভিনন্দন জানিয়ে গোষ্ঠীটির প্রধান নাঈম কাসেম বলেছেন, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাসের অবিচল প্রতিরোধ’র প্রমাণ।এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেছেন, এই চুক্তি, যা ২০২৪ সালের মে মাসে প্রস্তাব করা হয়েছিল, প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর অবিচল অধ্যবসায়কে প্রমাণ করে।তারা যা চেয়েছিল তারা তা-ই অর্জন করেছে। অন্যদিকে ইসরাইল যা চেয়েছিল তা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।

এখন খবর,পুনর্গঠন করে প্যালেস্টাইনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ৮০ বিলিয়ন ডলার অর্থ দরকার পড়বে। আর এই কাজে সময় লাগবে ৪০ বছর।গাজায় কাজ করা সাহায্য সংস্থাগুলি এই তথ্য জানিয়েছে।বলা হচ্ছে যুদ্ধের ফলে গাজা ধ্বংসস্তূপঠাসা মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ভবনগুলোর অধিকাংশই ধ্বংসস্তূপ। প্রধান রাস্তাঘাট ধসে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জল ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।বেশিরভাগ হাসপাতাল আর কাজ করছে না।এই অবস্থায় রবিবার যুদ্ধ শেষ হলে এবং পরিদর্শকদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার পেলেই ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ জানা যাবে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া অভিযানে গাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং জনশূন্য করা হয়েছে।

এর মধ্যে স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে,রাষ্ট্রসংঘ অনুমান করেছে যে গাজার ৭০ শতাংশ কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। যার মধ্যে ২ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি বাড়ি রয়েছে।কিছু পুনর্নির্মাণের আগে ধ্বংসস্তূপ অপসারণ করতে হবে।দেখা গিয়েছে,যুদ্ধের ফলে গাজা ৫০ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপে ভরে গেছে। যা গিজার গ্রেট পিরামিডের চেয়ে প্রায় ১২ গুণ বড়। ১০০টিরও বেশি ট্রাক পূর্ণ-সময় কাজ করলেও এই ধ্বংসস্তুপ পরিষ্কার করতে ১৫ বছর সময় লাগবে।

এখন প্রশ্ন হলো ১৫ মাসের গাজা যুদ্ধে কী পেলো ইসরায়েল? ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। হামাসকে নির্মূল করার চেষ্টায় ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করলেও তা কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের জন্য বিপদ বয়ে এনেছে। গাজার ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং অসামরিক জনগণের বিপর্যয় বিশ্বজনমতের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। একসময় পশ্চিমী বিশ্বের অকুণ্ঠ সমর্থন পাওয়া ইসরায়েল এখন অনেক দেশেই সমালোচনার মুখে।

অন্যদিকে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমী বিশ্বের শক্তিশালী সমর্থন পেয়ে আসছিল। কিন্তু গাজার সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে অনেক দেশ তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করছে।যুদ্ধের প্রথম দিকে ইসরায়েল পাশে পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রতি পশ্চিমী দেশগুলোর অবস্থান বদলে যায়। বিশেষ করে আমেরিকার ইহুদি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ইসরায়েল নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে।গবেষণায় দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ইহুদি কিশোর এখন হামাসের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছে।৪২ শতাংশ কিশোর মনে করছে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী গণহত্যা চালাচ্ছে। প্যালেস্টাইনি জনগণের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা এই নতুন প্রজন্ম ইসরায়েলের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।