
অল্পেই ক্লান্তি, আচমকাই বাড়ছে ওজন, অকালে চুল ঝরছে, ত্বক শুকনো এবং খসখসে হয়ে যাচ্ছে এই ধরনের শারীরিক সমস্যা অনেক সময় আমরা গুরুত্ব দিই না। কিন্তু এসবের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে থাইরয়েডজনিত সমস্যা। সময়মতো চিকিৎসা না করলে এই সমস্যাগুলো মারাত্মক হতে পারে। তাই শরীরের এসব সংকেত বুঝে আগে থেকেই জীবনযাপনে পরিবর্তন আনাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবাই জানেন,থাইরয়েড একটি গ্রন্থি, যা আমাদের গলায় শ্বাসনালির সামনের দিকে থাকে। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন আমাদের শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন, বিপাকক্রিয়া, শারীরিক বৃদ্ধি, বুদ্ধির বিকাশ, ঋতুচক্র ও সন্তান ধারণের মতো কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েডের দুটি প্রধান হরমোন রয়েছে; টি-থ্রি এবং টি-ফোর। এই হরমোনগুলোর পরিমাণ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম হয়, তখন এটি থাইরয়েডের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।থাইরয়েডের হরমোনের পরিমাণ যদি বেড়ে যায়, তবে তাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিজম এবং যদি কমে যায় তাহলে বলা হয় ,হাইপোথাইরয়েডিজম। সম্প্রতি কিছু প্রাকৃতিক উপায় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে,যেগুলো হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।এই অবস্থায় হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু প্রাকৃতিক উপায় আছে। যেমন,সুষম খাদ্যাভ্যাস।হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে ডায়েট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করতে হবে।সবুজ শাক-সবজি, শস্যদানা, ঢেঁকি ছাঁটা চাল, ডালিয়া, ওটস ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। পাশাপাশি, সূর্যমুখীর বীজ বা তিল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এগুলো সিলেনিয়ামের ভাল উৎস, যা থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে।
প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনি এড়ানো দরকার। চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাই এই খাবারগুলো ডায়েট থেকে বাদ দেওয়া প্রয়োজন। গ্লুটেন ,গম, রাই, বার্লি-সহ কিছু খাবারে থাকে থেকে বিরত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।গ্লুটেন শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, এবং হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।পাশাপাশি,থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত ব্যায়াম এবং যোগাসন অত্যন্ত সহায়ক। বিশেষ করে, স্ট্রেচিং, সর্বাঙ্গাসন, হলাসন এবং ভুজঙ্গাসন থাইরয়েড গ্রন্থির রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, যার ফলে সেখানে অক্সিজেন ও পুষ্টির প্রবাহ ভালোভাবে পৌঁছে। এছাড়া, উজ্জয়িনী প্রাণায়মও থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।এভাবে, কিছু প্রাকৃতিক উপায় এবং সচেতনতা অবলম্বন করে হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।
