
সাধারণতঃ সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কেউ হাঁটেন,কেউ দৌড়ান, আবার কেউ জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করেন।তবে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না,কখন ব্যায়াম করছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা, বডি ক্লক-এর সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে এর উপকারিতা আরো বাড়তে পারে।এদিকে,যারা সকালে ঘুম থেকে উঠতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন,তাদের জন্য সকালের ব্যায়াম বেশি উপকারী হতে পারে। আর যারা রাতে বেশি সক্রিয় থাকেন বা দেরিতে ঘুমান, তাদের জন্য বিকেল বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা ভালো।গবেষণায় দেখা গেছে, নিজের দেহঘড়ির সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো থাকে, ঘুমের মান উন্নত হয়, রক্তচাপ কমে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একদল ছিল মর্নিং লার্ক,যারা সকালে বেশি সক্রিয়। অন্যদল ছিল,নাইট আউল,যারা রাতে বেশি জেগে থাকেন। দেখা যায়, দু’ দলই ব্যায়াম করে উপকার পেয়েছেন। তবে যারা নিজেদের স্বাভাবিক দেহঘড়ি অনুযায়ী ব্যায়াম করেছেন, তারা তুলনামূলক বেশি সুফল পেয়েছেন।গবেষকদের মতে, দেহঘড়ি ঘুম, হরমোনের ভারসাম্য এবং দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এটি ব্যায়ামের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবার জন্য একই সময় উপযুক্ত নয়। নিজের জীবনযাপন ও শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ব্যায়ামের সময় বেছে নেওয়াই ভালো।অবশ্য ব্যায়ামের সময়ের চেয়ে নিয়মিত ব্যায়াম করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই অবস্থায় প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়ামও করার কথা বলা হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা, দৌড়ানো, শক্তি বৃদ্ধি ও নমনীয়তা বাড়ানোর ব্যায়াম—সবকিছুর সমন্বয়ই সুস্থ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়।








