
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে আমেরিকা ও ইসরায়েল। এর জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরানি সেনারা। শত্রুদের জাহাজ চলাচলের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এমনকি শত্রুরা যাতে সেখানে সামরিক শক্তি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সাহায্য করতে না পারে সেজন্য প্রণালীজুড়ে মাইন পেতে রেখেছে ইরানি সেনারা। আর সেই মাইনই এখন তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস এক রিপোর্টে দাবি করেছে, কোথায় কোথায় মাইন পাতা হয়েছিল, এখন আর তা চিহ্নিত করতে পারছে না ইরানি সেনারা। সেই কারণেই আমেরিকার শর্ত মেনে সব জাহাজের জন্য হরমুজ খুলে দিতেও পারছে না তারা। ইসলামাবাদের বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উঠতে পারে। এদিকে,পশ্চিম এশিয়ার এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে সারাবিশ্বের মোট চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ খনিজ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে এই প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। সেই হরমুজেই মাইন পেতে শত্রু দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। আমেরিকার দাবি, জলে মাইন পাততে এবং তা সরিয়ে নিতে যে কৌশল এবং দক্ষতার প্রয়োজন হয়, ইরানের হাতে তা নেই। সেই কারণেই সমস্যা হচ্ছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত মাসে হরমুজে মাইন পাতার জন্য ছোট ছোট নৌকো ব্যবহার করেছিল ইরান।
একটি নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়েছিল। সেখান দিয়েই ইরানের অনুমতি সাপেক্ষে আপাতত পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করছে।ইরানের গার্ড বাহিনী হরমুজের নিরাপদ অংশের মানচিত্রও প্রকাশ করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজে এলোমেলোভাবে মাইন পাতা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া রেকর্ড করা হয়েছিল কি না, সন্দেহ আছে। যদি রেকর্ড করা হয়েও থাকে, পরবর্তী সময়ে মাইনগুলো চিহ্নিত করা কঠিন। অভিযোগ, এমনভাবে মাইন পাতা হয়েছিল যে, জলের ধাক্কায় তা পূর্বের অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে। সেগুলো নজরে রাখার আর কোনও ব্যবস্থা রাখেনি ইরান।
