
শীতকাল অনেকের জন্য আরামদায়ক সময় হলেও যাদের অটোইমিউন রোগ আছে, যেমন লুপাস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, তাদের জন্য এই সময়টা বেশ কষ্টের হতে পারে।
ঠাণ্ডা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেকের জয়েন্টে ব্যথা, শক্তভাব, ক্লান্তি ও প্রদাহ বেড়ে যায়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে তাপমাত্রা কমে গেলে শরীরের জয়েন্টের ভেতরের তরল ঘন হয়ে যায়। এতে নড়াচড়া করতে কষ্ট হয় এবং ব্যথা বাড়ে।আবার বাতাসের চাপের পরিবর্তনের কারণেও জয়েন্ট ও পেশিতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।এদিকে,শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় সূর্যের আলো কম পাওয়া যায়। এতে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে,যা অটোইমিউন রোগের লক্ষণ আরো বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে কম চলাফেরা ও মন খারাপের প্রভাবেও ব্যথা ও ক্লান্তি বেশি অনুভূত হয়।এ ছাড়া ছুটির ব্যস্ততা, ভ্রমণ, ঘুম ও খাবারের রুটিন বদলে যাওয়ায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। শীতকালে সর্দি, ফ্লু বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণও অটোইমিউন রোগের ফ্লেয়ার বা সমস্যা বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ অভ্যাস মেনে চললে শীতকালেও সুস্থ থাকা সম্ভব।সেইসঙ্গে,গরম কাপড় পরুন, হাত-পা ও জয়েন্ট উষ্ণ রাখুন।গ্লাভস, মোজা ও স্কার্ফ ব্যবহার করুন।কাজে ধীরতা আনুন ,একসঙ্গে বেশি কাজ না করে বিরতি নিয়ে কাজ করুন। নড়াচড়া বজায় রাখুন,নিয়মিত হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটা, যোগব্যায়াম বা ঘরের ভেতরে ব্যায়াম করুন।মানসিক চাপ কমান, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা বিশ্রামের সময় রাখুন।সূর্যের আলো নিন,প্রতিদিন অল্প সময় হলেও রোদে বের হওয়ার চেষ্টা করুন। সঠিক খাবার ও ঘুম,পুষ্টিকর খাবার খান, পর্যাপ্ত জল পান করুন এবং ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমান। ওষুধ নিয়মিত নিন, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।
সংক্রমণ এড়িয়ে চলুন, হাত পরিষ্কার রাখুন, অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলুন। এর বাইরে,যদি ব্যথা, ক্লান্তি বা অস্বস্তি হঠাৎ বেড়ে যায়, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সময়মতো চিকিৎসা নিলে সমস্যা গুরুতর হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সবশেষে, শীতকাল অটোইমিউন রোগীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও সচেতন থাকলে ও নিয়ম মেনে চললে এই সময়টাও সুস্থভাবে কাটানো যায়।




