
বয়ঃসন্ধির সময় মুখে ব্রণ হওয়া খুবই স্বাভাবিক।কিন্তু ব্রণ সেরে যাওয়ার পরও অনেকের মুখজুড়ে থেকে যায় ওপেন পোরসের সমস্যা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ছিদ্রগুলো আরো বড় ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে।ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকে ছোট ছোট পোরস থাকা স্বাভাবিক হলেও কিছু নির্দিষ্ট কারণে সেগুলো অতিরিক্ত বড় হয়ে যেতে পারেপরিবারের কারো ওপেন পোরসের সমস্যা থাকলে তা বংশানুক্রমে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা পুরোপুরি জিনগত।এদিকে,যাদের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রে সেবাম নিঃসরণ বেশি হয়। এই অতিরিক্ত তেল পোরসের ভেতরে জমে ছিদ্রগুলোকে ধীরে ধীরে বড় করে তোলে।ওদিকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিসিটি কমে যায়। ফলে ত্বক ঢিলে হয়ে পড়ে এবং ওপেন পোরস আরো বেশি চোখে পড়ে। সূর্যের ইউভি রশ্মি ত্বকের গভীর স্তরে ক্ষতি করে। এতে কোলাজেন নষ্ট হয়, ত্বকের টান কমে যায় এবং ওপেন পোরসের সমস্যা বেড়ে যায়।ত্বকের ধরন না বুঝে প্রসাধনী ব্যবহার করলে বা নিয়মিত মুখ পরিষ্কার না করলে পোরসের ভেতরে ধুলো, ময়লা ও মৃত কোষ জমে। এর ফলেই পোরস বড় হয়ে যায়।আবার ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস ও ব্রণ হলে পোরস প্রসারিত হয়। ব্রণ সেরে গেলেও অনেক সময় পোরস আগের অবস্থায় ফেরে না।অন্যদিকে ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা বা রজোনিবৃত্তির সময় হরমোনের ওঠানামায় সেবাম নিঃসরণ বেড়ে যায়।এর ফলেও ওপেন পোরসের সমস্যা দেখা দেয়।ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওপেন পোরস পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও নিয়মিত পরিচর্যায় এর আকার অনেকটাই কমানো যায়।এই অবস্থায় প্রতিদিন ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং করলে ত্বক পরিষ্কার থাকে এবং পোরসের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।পাশাপাশি,সপ্তাহে অন্তত ২ বার হালকা এক্সফোলিয়েশন করলে মৃত কোষ দূর হয় এবং পোরস বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমে।হালকা, কম ঘনত্বের ও নন-কমেডোজেনিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে পোরস ব্লক হয় না।আবহাওয়া যেমনই হোক, দিনের বেলা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এটি ত্বককে ইউভি ড্যামেজ থেকে রক্ষা করে।শেষে বলা যায়, ওপেন পোরস কোনো হঠাৎ হওয়া সমস্যা নয়। জিন, হরমোন, জীবনযাপন ও ত্বকের যত্ন,সবকিছুরই এতে প্রভাব রয়েছে।
তাই নিয়মিত স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চললে এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন নিলে ওপেন পোরসের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
