ট্রাম্প কেন গাজা দখল করতে চান

0
130
ছবি  সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল 

প্যালেস্টাইনিদের অন্যত্র সরিয়ে গাজার দখল নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন প্রস্তাবের প্রতি তীব্র নিন্দা ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে মানুষ।

বর্তমানে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে, অন্যদিকে সংঘাত-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন অস্পষ্ট প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে মার্কিন নীতিতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ প্রস্তাব, গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন প্যালেস্টাইনি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর ব্যাপক আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকে ক্ষুণ্ণ করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাটির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিলেও আরব দেশসহ কিছু দেশ এবং কিছু মার্কিন মিত্র এই পরিকল্পনা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।বলা হচ্ছে,ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি একটি বিষয়ে সঠিক হন তা হলো, কয়েক দশক ধরে মার্কিন কূটনীতি ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইনিদের এই সংঘাতের সমাধান দিতে ব্যর্থ।বহু শান্তি প্রস্তাব ও প্রেসিডেন্ট এসেছেন আবার চলেও গেছেন কিন্তু সমস্যাগুলো আরো তীব্র হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের আক্রমণ এবং এর ফলে গাজায় যুদ্ধ শুরুটা ছিল এর ভয়াবহ ফলাফল।এদিকে গাজা পুনর্নির্মাণের কাজটি বিশাল।কিন্তু গাজা উপত্যকার মধ্য ও দক্ষিণ অংশের মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র বা তাদের বাড়ির কাছাকাছি রাখার উপায় বের কারার পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তাদের স্থায়ীভাবে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে উৎসাহিত করা উচিত।রাষ্ট্রসংঘের অনুমান, ১৫ মাস ধরে চলা হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের পর গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবিস্ফোরিত অস্ত্রশস্ত্র এবং ধ্বংসস্তূপের পাহাড় অপসারণ করতে হবে। জল এবং বিদ্যুতের লাইন মেরামত করতে হবে।স্কুল, হাসপাতাল এবং দোকান পুনর্নির্মাণ করতে হবে।ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফও বলেছেন, এতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে এবং এটি চলতে থাকলে প্যালেস্টাইনিদের কোথাও যেতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বাস, প্যালেস্টাইনিদের অনুপস্থিতিতে আমেরিকান মালিকানাধীন মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরা সেই যুদ্ধের ছাই থেকে উঠে আসবে এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থান, বিনিয়োগের সুযোগ এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বের মানুষের বসবাসের জন্য একটি জায়গা হয়ে উঠবে গাজা।উল্লেখ্য,ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একজন প্রেসিডেন্ট, যে তার প্রথম মেয়াদের বেশির ভাগ সময় মার্কিন মধ্যপ্রাচ্যনীতিকে উল্টে দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর এবং অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া।কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখনো ভাবেননি যে ইসরায়েল-প্যালেস্টাইনি সংঘাত সমাধানের জন্য প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ডের একটি অংশ দখল করতে হবে এবং সেখানকার জনগণকে উচ্ছেদ করতে হবে। স্পষ্ট করে বলতে গেলে, বলপ্রয়োগ করে এটি করা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হবে।এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কিছু প্যালেস্টাইনি সম্ভবত গাজা ছেড়ে অন্যত্র তাদের জীবন গোছানোর বিষয়টি মেনে নেবেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার প্যালেস্টাইনি ইতিমধ্যেই এটি করেছে। কিন্তু অন্যরা তা চিন্তাও করতে পারবে না। কারণ তাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই অথবা গাজার প্রতি তাদের ভালোবাসা, যে ভূখণ্ডটাকে তারা প্যালেস্টাইন বলে এবং সেই অনুভূতি খুব বেশি শক্তিশালী।

গাজার বাসিন্দার মধ্যে রয়েছেন ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের সময় পালিয়ে যাওয়া অথবা তাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়া লোকদের বংশধর। প্যালেস্টাইনিরা ওই ঘটনাকে বা সময়কালকে,নাকবা বলে যার আরবি অর্থ বিপর্যয়।