
রিয়েলিটি শো থেকে যাত্রা শুরু হলেও অরিজিৎ সিংয়ের সংগীতজীবন কখনও সরল রেখায় এগোয়নি। জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠার আগেই তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন কয়েক বছর।
সেই সময়টা নষ্ট হয়নি,বরং সুরকার প্রীতম চক্রবর্তীর কাছে কাজ শিখে নিজেকে তৈরি করেছেন আরও গভীরভাবে। এরপর ফিরে এসে হিন্দি, বাংলা-সহ একাধিক ভাষায় এমন সব গান উপহার দিয়েছেন, যা শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।বলা যায়, তাঁর কণ্ঠে যা-ই উঠেছে, সেটাই হিট।ঠিক সেই জনপ্রিয়তার তুঙ্গেই দাঁড়িয়ে প্লে-ব্যাক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন অরিজিৎ সিং। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া তাঁর এক পোস্টে এই ঘোষণা সামনে আসে। মুহূর্তে মন খারাপ হয়ে যায় অসংখ্য অনুরাগীর।প্রশ্ন ওঠে—হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?উত্তরটা অবশ্য গায়ক নিজেই দিয়েছেন। অরিজিৎ বরাবরই নিজের শর্তে গান করেন। একই গান বারবার নতুন অ্যারেঞ্জমেন্টে সাজিয়ে মঞ্চে ভিন্নভাবে পরিবেশন করাই তাঁর অভ্যাস। কিন্তু সেটাই একসময় হয়ে উঠেছে ক্লান্তিকর।সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন,এমন একটা সিদ্ধান্ত নেব, অনেক দিন ধরেই ভেবেছিলাম। অবশেষে সাহস জোগাড় করতে পেরে ঘোষণা করলাম। সোজা ভাবে বলতে গেলে, আমার খুব সহজেই একঘেয়েমি চলে আসে। যে কারণে আমি আমার গানের অ্যারেঞ্জমেন্ট প্রায়ই বদলে বদলে মঞ্চে পারফর্ম করি। সেই কারণেই আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি।নতুন ধরনের সঙ্গীতের খোঁজে নামছি।তবে প্লে-ব্যাক ছাড়লেও গান ছাড়ছেন না অরিজিৎ—এই বার্তাটাও তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন। পোস্টের মন্তব্যে গায়ক লিখেছেন , আমি ভালো সঙ্গীতের একজন ভক্ত। ভবিষ্যতে আরও শেখার ইচ্ছে আছে—নিজের মতো করে, ছোট পরিসরে হলেও একজন শিল্পী হিসেবে আরও কাজ করতে চাই। এতদিন ধরে যে ভালোবাসা আর সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।এমনকি চলতি বছরেই তাঁর কণ্ঠে নতুন গান শোনা যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে রেকর্ড করা কিছু গান মুক্তি পাবে। গায়কের কথায়, এখনও কিছু পুরোনো প্রতিশ্রুতি বাকি আছে, সেগুলো শেষ করবই। তাই এ বছরেই হয়তো কয়েকটা নতুন রিলিজ পেয়ে যাবেন আপনারা।
এদিকে,প্লে-ব্যাক থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে আরও গভীর ভাবনা রয়েছে। অরিজিৎ বলেছেন, বাঁচতে হলে, নিজেকে খুঁজে পেতে হলে—আমাকে অন্য রকমের সঙ্গীত করতে হবে।








