
সাধারণতঃ দেখা যায় রোদের কারণে বছরজুড়ে প্রায় সবাই নানা রকম বিড়ম্বনার শিকার হন। তীব্র রোদের কারণে জলশূন্যতা, ত্বক পুড়ে যাওয়া, ত্বকে খসখসে ভাব, ত্বক কুঁচকে যাওয়াসহ নানা সমস্যা তৈরি হয় এবং আমাদের আশপাশের অনেকেই এর ভুক্তভোগী।
তবে এর পরও রোদের থেকে ত্বক বাঁচাতে এখনো বেশির ভাগ মানুষ ভরসা করেন ছাতা কিংবা ছায়ার ওপর।এই অবস্থায় পশ্চিমে তো বটেই, ভারতসহ নানা দেশেই অনেক মানুষ সানস্ক্রিন ব্যবহার করে এবং গরমের দিনে এটি সেসব জায়গার মানুষের একটি অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ।এদিকে,মানুষের ত্বকের ওপর রোদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানার ঘাটতি রয়েছে। সারা বছরই রোদ পড়ার কারণে অনেকেই মনে করেন প্রাকৃতিকভাবে এখানে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।তবে অনেকেই তীব্র রোদের কারণে নানা ত্বকের সমস্যাতেও ভোগেন।তবে এখানে মূল সমস্যা হিসেবে কাজ করে সানস্ক্রিনের দাম। কারণ বাজারে মানসম্মত সানস্ক্রি সরবরাহ যেমন পর্যাপ্ত নয়,তেমনি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দামটাও চড়া। অন্যদিকে অনেকের পক্ষেই নিয়মিত বিদেশি ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।এর মধ্যে,যেহেতু সানস্ক্রিন একটি নিত্যব্যবহার্য প্রোডাক্ট, প্রতিদিন বাইরে বের হবার আগেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, কাজেই সেই হিসেবে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার আসলেও খরচের ব্যাপার অনেকের জন্য। বলা হয় আমদানিসংক্রান্ত নানা শুল্ক এবং অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত সব সানস্ক্রিনের দামই অনেক বেড়ে যায়। এ ছাড়া দেশীয় প্রতিষ্ঠানের তৈরি দেশে উৎপাদিত মানসম্মত সানস্ক্রিনের অভাবের কথাও বলা হয় অনেক সময়।তবে বাজারে বিভিন্ন দোকানে নানা ধরনের মোড়কে নানা নামের সানস্ক্রিনের পাওয়া যায় কম দামে।এসব নন-ব্র্যান্ড সানস্ক্রিন আসলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এবং সানস্ক্রিনের মতো পণ্যের যে ধরনের লাইসেন্স বা পণ্যের মান হওয়া প্রয়োজন, তার কোনোটিই এসব ক্ষেত্রে মানা হয় না। ফলে ক্রেতাদের মধ্যেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব প্রোডাক্টর তেমন একটা চাহিদা নেই।অন্যদিকে ক্রেতাদের মধ্যে আগের মধ্যে ত্বকের যত্ন নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। এখন অনেকেই সানস্ক্রিনের খোঁজ করেন। কেনার পরিমাণও বেড়েছে। তবে এখনো বাজারে প্রচলিত বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর সানস্ক্রিনের যে দাম, সেটি বেশির ভাগ ক্রেতার নাগালের বাইরে।এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অন্যান্য পরিবেশগত কারণে দেশের গড় তাপমাত্রা বাড়ছে, সেই সাথে বাড়ছে রোদের তীব্রতা এবং রোদে অতিবেগুনি রশ্মির পরিমাণও।
এই কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ফলে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে যেমন সচেতনতা প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন ত্বকের সুরক্ষায় ব্যবহার্য প্রোডাক্টর সহজলভ্যতা এবং সুলভ মূল্যের ব্যবস্থা করা।








