
অনেক দিন ধরেই আলোচনায় ছিল ম্যাডোনার বায়োপিক। পরিচালনার জন্য অনেক নির্মাতার নাম শোনা গেছে, প্রযোজনা সংস্থা বদলেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির কাজই শুরু হয়নি।
এবার ম্যাডোনা নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর বায়োপিক কেন আর তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নপর্যায়ে থাকা প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত থেমে যায় মূলত বাজেট নিয়ে মতবিরোধের কারণে।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনা বলেছেন, তাঁর জীবনের গল্প এত বিস্তৃত ও ঘটনাবহুল যে সেটিকে পর্দায় তুলে ধরতে বড় বাজেট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু স্টুডিও সেই প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেনি। আমার জীবন ছিল অসাধারণ। খুব বড় এক জীবন। তাই বড় বাজেটের প্রয়োজন ছিল, বলেছেন ম্যাডোনা।ম্যাডোনার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি নিয়ে প্রায় দু’ বছর চিত্রনাট্য লেখা এবং আরও দু’ বছর প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলে। কাস্টিং, বাজেট, পরিকল্পনা,সবকিছু নিয়েই দীর্ঘ সময় কাজ করেছিলেন তিনি ও ইউনিভার্সাল পিকচার্স। ব্যয় কমানোর জন্য একপর্যায়ে তিনি সার্বিয়ায় শুটিংয়ের প্রস্তাবও দেন। কিন্তু স্টুডিও কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে আস্থা দেখায়নি।ম্যাডোনা জানিয়েছেন, স্টুডিওর এক নির্বাহীর প্রতিক্রিয়া ছিল এমন,আমরা বিশ্বাস করি না তুমি চার দিনের বেশি সার্বিয়ায় থাকতে পারবে। জবাবে তিনি বলেছিলেন, তোমরা কি স্ক্রিপ্টটা পড়েছ? আমার পুরো জীবনই তো টিকে থাকার সংগ্রাম। আমি সেখানে ছুটি কাটাতে যাচ্ছি না।পরে ম্যাডোনা উপলব্ধি করেন, হয়তো স্টুডিও তাঁর দর্শনের ওপরই যথেষ্ট বিশ্বাস রাখেনি।ইউনিভার্সালের সঙ্গে চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর নেটফ্লিক্স ম্যাডোনার জীবনের গল্পকে সিরিজ হিসেবে নির্মাণের আগ্রহ দেখায়।কিন্তু সেখানেও নতুন জটিলতা তৈরি হয়। ইউনিভার্সালের সঙ্গে তৈরি করা চিত্রনাট্য ব্যবহার করতে হলে সেটি আবার কিনে নিতে হতো, আর সেই মূল্যকে ম্যাডোনা অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন।ফলে ম্যাডোনাকে নতুন করে সব শুরু করতে হয়। শো রানার খোঁজা, নতুন পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে আরও আট-নয় মাস চলে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই পথও এগোয়নি।অন্যদিকে,জুলিয়া গার্নারকে নিয়েই হওয়ার কথা ছিল বায়োপিক।২০২১ সালে ইউনিভার্সাল একাধিক স্টুডিওকে হারিয়ে ম্যাডোনার বায়োপিকের স্বত্ব অর্জন করেছিল।
ছবিটি পরিচালনা ও সহ-লেখার দায়িত্বেও ছিলেন ম্যাডোনা নিজে। ২০২২ সালে দীর্ঘ অডিশন প্রক্রিয়ার পর ম্যাডোনার চরিত্রে নির্বাচিত হন জুলিয়া গার্নার।
