দিন দিন টার্বিউলেন্স বাড়ছে

0
153
ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে টার্বিউলেন্স বা বাতাসের ঘূর্ণি দিনদিন শক্তিশালী হচ্ছে।নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বা কৌশল এ অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করছে উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি, বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়াররা।

২০২৪ সালে মায়ানমারের দক্ষিণ অংশের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় শক্তিশালী এক টার্বিউলেন্সের মুখে পড়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট।একই বছরে বসন্তের শুরুতে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭-এর একটি ফ্লাইটও ফিলিপিন্সের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময়ও শক্তিশালী টার্বিউলেন্সের কবলে পড়েছিল। ওই সময় প্লেনের একজন কেবিন ক্রু ছাদে গিয়ে আছড়ে পড়েন। ফলে তার মাথা ঘুরে যাওয়ার পাশাপাশি হাত ভেঙে গিয়েছিল।এদিকে বলা হচ্ছে মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের টার্বিউলেন্সের ঘটনা বাড়ছে। ইউনিভার্সিটি অফ রিডিং’য়ের বায়ুমণ্ডল বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পল উইলিয়ামস বলেছেন, এমন ধরনের টার্বিউলেন্স রয়েছে, যা স্যাটেলাইট বা রেডারে ধরা পড়ে না এবং চোখেও দেখা যায় না। তবে তা খুবই শক্তিশালী প্রকৃতির হয়। ১৯৭৯ সালের পর থেকে এ ধরনের টার্বিউলেন্স বেড়েছে ৫৫ শতাংশ।অন্যদিকে,২০৫০ সালের মধ্যে গোটা বিশ্বে টার্বিউলেন্স তিন গুণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং এর বড় প্রভাব পড়বে পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আটলান্টিকে থাকা বিভিন্ন প্লেনের রুটে। এ কারণে প্লেনের ওঠার বিষয়ে অনিচ্ছুক হয়ে পড়তে পারেন মানুষ। প্লেন ভ্রমণে মানুষের সবচেয়ে ভয়ের কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ হারানো বা আগে খারাপ অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ভয়।এদিকে,টার্বিউলেন্স কেবল ঝুঁকিপূর্ণই নয়, বরং এটি প্লেন শিল্পের জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েও দাঁড়ায়।প্লেনের যন্ত্রাংশের ঘাটতি ও ক্ষয় বাড়ানোর পাশাপাশি পাইলটদের টার্বিউলেন্স এড়িয়ে যেতে গিয়ে উড়োজাহাজের পথ দীর্ঘ করতে হয়।এর ফলে বেশি জ্বালানি খরচের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও বাড়ে।সাধারণত টার্বিউলেন্স যাত্রীদের অস্বস্তি তৈরি করতে, আঘাত বা মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে কমই দেখা গিয়েছে।

তবে বায়ুমণ্ডলে টার্বিউলেন্সের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যার সমাধান খুঁজতে হচ্ছে প্লেন কোম্পানি, বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের। এজন্য ছোট ছোট ফ্ল্যাপলেট তৈরি করেছে অস্ট্রিয়ার বাদেনে অবস্থিত ,টার্বিউলেন্স সলিউশনস নামের এক প্রতিষ্ঠান। এসব ফ্ল্যাপলেট প্লেনের ডানার বড় ফ্ল্যাপ বা অ্যাইলেরন-এ অ্যাড করা যায়।