ফ্রান্স-স্পেনে দাবানল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃহত্তম স্থানান্তর

0
21
ছবি সৌজন্যে : এক্স

ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের দুই প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্স ও স্পেন। শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রচণ্ড বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দু’ দেশে এ পর্যন্ত তিন লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের ঐতিহাসিক বোর্দো অঞ্চলের জিরোন্দে পরিস্থিতি এতোই উদ্বেগজনক যে, এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সবচেয়ে বড় জরুরি অপসারণ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বলা হচ্ছে, চলতি বছরের টানা তাপপ্রবাহে শুকিয়ে যাওয়া পাইন বন ও ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে আগুন অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৬২ বর্গমাইল এলাকা ভস্মীভূত হয়েছে, যা আমেরিকার ম্যানহাটন দ্বীপের সাত গুণ এবং প্যারিস শহরের চার গুণেরও বেশি। জিরোন্দ অঞ্চলটি থেকেই প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ থেকে পাঠানো বিশেষ বিমান ও দমকলকর্মী মাঠে নেমেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, দাবানল নিজস্ব বাতাস তৈরি করে তীব্র বেগে বোর্দোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত প্রতিকূল। অন্য দিকে, প্রতিবেশী দেশ স্পেনেও ছড়িয়ে পড়েছে আগুনের লেলিহান শিখা।

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল এবং উপকূলীয় শহর ভ্যালেন্সিয়ায় নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর এ সপ্তাহে স্পেনে অন্তত ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। ভ্যালেন্সিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হুয়ানফ্রান পেরেজ ইয়োরকা চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এই মুহূর্তে আগুন নিয়ন্ত্রণ করার মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই। তবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন,মূল সংকট এখনও কাটেনি। এদিকে, দুই দেশের এ বিপর্যয়ে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ। তিনি প্রার্থনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে এবং নিরলস লড়াই চালিয়ে যাওয়া উদ্ধারকর্মীদের জন্য বিশ্ববাসীকে প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।