
আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীরা চাঁদের উল্টো পাশে গেলে পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে চাঁদ। এ সময় রেডিও সিগনাল যাতায়াত করতে না পারায় প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবী থেকে নভোচারীদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
নভোচারীদের রিয়ার-ভিউ মিরর বা, পেছনের জানালার আয়নায় পৃথিবীটা যখন ক্রমেই ছোট হয়ে আসছিল তখনও টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত মিশন কন্ট্রোল-এর সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল।বলা হচ্ছে, নাসার দলের শান্ত ও আশ্বস্ত করা কথাগুলো আর্টেমিস টু ক্রু সদস্যদের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে এক স্বস্তিদায়ক বন্ধন হয়ে কাজ করেছে। তবে সেই বন্ধন খুব শিগগিরই ছিন্ন হতে চলেছে।নভোচারীরা চাঁদের উল্টো পিঠে যাওয়ার সময় পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যে যোগাযোগের রেডিও এবং লেজার সিগনালগুলো স্বয়ং চাঁদের আড়ালে পড়ে বাধাগ্রস্ত হবে।প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য এ চার নভোচারী মহাকাশের অন্ধকারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকবেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকবে কেবল তাদের নিজস্ব চিন্তা ও অনুভূতি, যা হবে এক গভীর নিঃসঙ্গতা আর নীরবতার মুহূর্ত।এর আগে, আর্টেমিস পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেছিলেন, তার আশা, বিশ্ববাসী এ সময়টুকুকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কাজে ব্যবহার করবেন।মিশন শুরুর আগে এক সাক্ষাৎকারে গ্লোভার বলেছিলেন, যখন চাঁদের পেছনে থাকবেন ও সবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, তখন সেই সময়টিকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। প্রার্থনা করুন, আশা রাখুন এবং আপনাদের শুভকামনা ও অনুভূতিগুলো আমাদের কাছে পাঠান, যেন পুনরায় ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি। উল্লেখ্য,৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে অ্যাপোলো মিশনের নভোচারীরাও তাদের চন্দ্রাভিযানের সময় সিগনাল হারিয়ে এমন নিঃসঙ্গতা অনুভব করেছিলেন।
তবে সম্ভবত অ্যাপোলো ১১-এর মাইকেল কলিন্সের মতো এতটা তীব্রভাবে কেউ তা অনুভব করেননি।১৯৬৯ সালে নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন যখন চাঁদের বুকে প্রথম পা রেখে ইতিহাস গড়ছিলেন কলিন্স তখন কমান্ড মডিউলে একা ছিলেন ও চাঁদকে প্রদক্ষিণ করছিলেন।









