
এবার সোনা বিক্রি করে বিটকয়েন কিনতে চলেছে আমেরিকা? আমেরিকার হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায় মিলেছে সেই ইঙ্গিত। জনপ্রিয় এই ক্রিপ্টো মুদ্রার কৌশলগত ভান্ডার বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ গড়ে তুলতে চাইছেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বড় বদল আসবে তা বলার আপেক্ষা রাখে না।ক্রিপ্টো মুদ্রার প্রবল সমর্থক ট্রাম্প তাঁর ভোট প্রচারেও বিটকয়েন রিজার্ভের কথা বলেছিলেন। নভেম্বরে দ্বিতীয় বারের জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বিশেষ এই ডিজিটাল মুদ্রাটির দর হু হু করে বাড়তে থাকে। বড়দিনের মুখে ফের এক বার কৌশলগত পুঁজি হিসাবে বিটকয়েনের কথা বলতে শোনা গেছে তাঁকে।হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে বিটকয়েনের দর। ১৬ ডিসেম্বর এই ক্রিপ্টো মুদ্রার এক একটির দাম ছিল ১ লক্ষ ৭ হাজার ডলার। এদিকে আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে আপাতত বিটকয়েনের সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলেই মনে করছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।কিন্তু ইতিমধ্যেই বর্যীয়ান রিপাবলিকান নেতার সিদ্ধান্ত ঘিরে তাঁর নিজের দল এবং দেশের মধ্যেই রয়েছে একাধিক প্রশ্ন। অনেকেই জানতে চাইছেন, কৌশলগত পুঁজি বলতে ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? কী ভাবেই বা বিটকয়েনে সেই ভান্ডার ভরিয়ে তুলবেন তিনি? এর জন্য আমেরিকার সোনার কোষাগার ভেঙে হলুদ ধাতু বিক্রি করা কতটা যুক্তিযুক্ত?আসলে খরা-বন্যা-ভূমিকম্প হোক বা অন্য কোনও সঙ্কট, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দেশকে রক্ষা করতে সরকারের কাছে থাকে বিশেষ একটি তহবিল।অর্থনীতির পরিভাষায় একেই বলে কৌশলগত রিজার্ভ। বিপদের সময়ে এই তহবিলের সঞ্চিত অর্থই রাষ্ট্রের একমাত্র আশা-ভরসা। আর তাই কৌশলগত পুঁজি বৃদ্ধির দিকে নজর রাখে বিশ্বের প্রতিটি দেশ।উদাহরণ হিসাবে আমেরিকার কৌশলগত পেট্রলিয়াম রিজার্ভের কথা বলা যেতে পারে। ১৯৭৩-’৭৪ সালে পশ্চিম এশিয়ার আরব দেশগুলি ওয়াশিংটনকে অপরিশোধিত তেল বিক্রি বন্ধ করেছিল। তরল সোনা’র অভাবে আমেরিকার অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।
এর পরই ১৯৭৫ সালে কৌশলগত কাঁচা তেলের রিজার্ভ তৈরির জন্য বিশেষ আইন পাশ করে আমেরিকার পার্লামেন্ট।বিগত কয়েক দশকে বহু বার তেলের দামের আঁচ লাগা থেকে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে ওই কৌশলগত রিজার্ভ-এর যথেচ্ছ ব্যবহার করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্টরা।







