
ভবিষ্যতের চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানকে আরও গতিশীল করতে নতুন রোভার নিয়ে পরীক্ষা করছে নাসা।আগের বিভিন্ন রোভারের ধীরগতি ও চাকার সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে,আর্নেস্ট নামের নতুন এ রোভার, যা খাড়া ঢালু পথ পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি যে কোনো প্রতিবন্ধকতা এড়াতে নিজের বিভিন্ন চাকা আলাদাভাবে ওপরে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য,নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে মঙ্গলের বুকে প্রথম রোভার অবতরণের পর থেকে নাসার বিভিন্ন রোভার একের পর এক অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। তবে মহাকাশ গবেষণার এ আধুনিক সদস্যদেরও এখনো বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে।প্রথমত, এগুলো ধীরগতির। নাসার অন্যতম সেরা রোভার পার্সিভ্যারেন্স সমতল ভূমিতে ঘণ্টায় কেবল ০.১ মাইলেরও কম গতিতে চলে। এর ওপর মঙ্গলের পাথুরে ও বন্ধুর পথ রোভারের বিভিন্ন চাকার ক্ষতি করে। পাথর ও বালির মতো বিপজ্জনক উপাদানে ভরা খাড়া ঢালগুলো পেরিয়ে যাওয়া এদের জন্য এতটাই কঠিন যে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেক সময় এসব রোভারকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়।সেসব সমস্যা বিবেচনায় এ সপ্তাহে নাসা এমন এক প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক রোভারের অগ্রগতি দেখিয়েছে, যা আরও উন্নত সক্ষমতাওয়ালা রোভার। নতুন আর্নেস্ট রোভারটির পূর্ণরূপ এক্সপ্লোরেশন রোভার ফর ন্যাভিগেটিং এক্সট্রিম স্লোপড টেরেইন।ভবিষ্যতে মঙ্গল ও চাঁদের অভিযানে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন কিছু নতুন কৌশল যাচাই করতে নাসা কলোরাডো মরুভূমিতে আর্নেস্টের পরীক্ষা চালাচ্ছে।এদিকে,বর্তমানে মঙ্গলে থাকা ছয় চাকার বিভিন্ন রোভারের বিপরীতে আর্নেস্টের চাকা রয়েছে চারটি ও এর দৈর্ঘ্যে চার ফুট। তবে মূল অভিযানে যে ভার্শণটি পাঠানো হবে সেটির আকার হবে এর দ্বিগুণ।এ রোভারটির বিশেষত্ব হচ্ছে, প্রতিবন্ধকতা এড়াতে বা কোনোবাধা পেরিয়ে ওপর দিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের চাকাগুলোকে আলাদা আলাদাভাবে ওপরে তুলতে পারে।
নাসার তথ্য অনুসারে, মরুভূমির সাম্প্রতিক পরীক্ষায় প্রোটোটাইপটি সাত দিনে মোট ৩৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে এবং প্রায় ১৬ মাইল পথ পেরিয়েছে। এ পরীক্ষায় রোভারটির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ০.৬ মাইল।
