
রক্ষণশীল পাকিস্তানে মহিলাদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পিরিয়ড যেন নিষিদ্ধ বিষয়। এ নিয়ে জনপরিসরে আলোচনাটাই লজ্জার বিষয়, যেন অপরাধ।
অধিকারকর্মীরা সামাজিক এই ট্যাবু ভাঙার চেষ্টা করছেন বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু সামাজিক ট্যাবুর বিশাল এই অচলায়তন ভাঙা এক দিনের কাজ নয়। দিনের পর দিন আঘাত হানলে পাহাড়েরও ঘুম ভাঙে। এখন দুই তরুণ আইনজীবীর আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে সরকারের টনক কিছুটা হলেও নড়েছে।পিরিয়ড ট্যাক্স নামে পরিচিত স্যানিটারি পণ্যের ওপর আরোপিত ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এদিকে মহিলাদের পিরিয়ড একটি নিয়মিত ও স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। তবে সঠিক নিয়ম মানলে ও স্বাস্থ্যকর স্যানিটারি পণ্য ব্যবহার করলে মহিলারা পিরিয়ডকালীনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র বা সংসারে স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাত্র ১২ শতাংশ মহিলা বাণিজ্যিক স্যানিটারি পণ্য ব্যবহার করেন।বাকি অধিকাংশ মহিলা কাপড়ের টুকরা বা অস্বাস্থ্যকর ঘরোয়া সামগ্রী ব্যবহার করেন। যা তাদের জন্য নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং অনেক সময় নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। স্যানিটারি পণ্য ব্যবহারের এই অতিনিম্নহারের মূল কারণ এর অতি উচ্চমূল্য। এত দিন স্যানিটারি পণ্যকে রাখা হয়েছিল বিলাস পণ্যের তালিকায়।দুই তরুণ আইনজীবীর সরকারের বিরুদ্ধে করা এক মামলার সূত্র ধরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক পরিসরে আলোচনা শুরু হয়।গত বছরের অক্টোবরে ২৯ বছর বয়সী আহসান জাহাঙ্গীর খান এবং ২৫ বছর বয়সী মাহনুর ওমর নামের দুই আইনজীবী তথাকথিত পিরিয়ড ট্যাক্স প্রত্যাহার করতে এবং স্যানিটারি পণ্যকে বিলাসপণ্যের বদলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।
তাদের মতে, এই কর আরোপের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার মহিলাদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকারকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবহেলা করেছে, যা জনজীবনে তাদের পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে।
