আমেরিকা না থাকলে ন্যাটোতে ব্রিটেনও গুরুত্বহীন

0
31
ছবি সৌজন্যে : এক্স

ওয়াশিংটন ডিসিতে ঐতিহাসিক সফরে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস পশ্চিমী সামরিক জোট ন্যাটোর গুরুত্ব তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। বর্তমানে আমেরিকা ও ইউরোপ যেসব বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে, তা কোনো একক জাতির পক্ষে সামলানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই জোট অটুট রাখার আহ্বান জানান।

গত কয়েক দশকে আটলান্টিক মহাসাগরের দু’ পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে যে অবিচ্ছেদ্য অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে,তাকে আধুনিক বিশ্বের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।সম্প্রতি ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্ররা আমেরিকার সামরিক অভিযানে যোগ না দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটো থেকে সরে আসার হুমকি দিয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই কঠোর অবস্থানের পরই রাজার এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজা চার্লস তার ভাষণে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৯/১১ হামলার পর ন্যাটোর ইতিহাসে একমাত্র ব্রিটেনের উদ্যোগেই যৌথ আত্মরক্ষার ধারাটি সক্রিয় করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, ইতিহাস ও অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই জোট কেবল অতীতের অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং একে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী করতে হবে।এদিকে,বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে এই সফরকে দুদেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হলেও হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিছু মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই মিশনে রাজা চার্লস তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন যে তারা ব্যক্তিগত বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং রাজা তার কৌশলের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। যদিও ব্রিটিশ রাজপরিবার প্রথাগতভাবে সরাসরি রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো পক্ষ নেয় না, তবুও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।