
অনেক সময় দেখা যায় বয়স ৪০ পেরোতেই অনেক মহিলা হাড় ও অস্থিসন্ধির ব্যথায় ভুগতে শুরু করেন। এই ব্যথা পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হরমোনগত পরিবর্তন।
অনেক গবেষক মনে করেন, ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন হাড়কে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।আবার কেউ কেউ মনে করেন, পারিবারিক ইতিহাস বা জিনগত কারণ থেকেও এই ব্যথার প্রবণতা বাড়তে পারে। এখন প্রশ্ন হলো এই বয়সে মহিলাদের হাড় ও গাঁটের ব্যথা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ কি।উত্তর হলো,বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। মেনোপজ ,ঋতুচক্র বন্ধ হওয়ার পর হরমোনের মাত্রা হঠাৎ কমে যায়।এর ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ক্ষয় হতে থাকে, যা ব্যথার অন্যতম কারণ। ওদিকে,মহিলাদের ইমিউন সিস্টেম সাধারণত পুরুষদের তুলনায় বেশি সক্রিয়। এতে সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য হয় ঠিকই, তবে এর কারণে অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এমনই একটি সমস্যা, যা হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলা ভাব সৃষ্টি করে। পাশাপাশি,জন্মগতভাবে মহিলাদের হাড়ের গঠন চওড়া ও অস্থিসন্ধিগুলো বেশি নমনীয় হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে চর্বির পরিমাণ বাড়ে, যা হাঁটু ও কোমরে চাপ সৃষ্টি করে। এতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর,সন্তান জন্মদানের পর মহিলাদের শরীরে বড় ধরনের হরমোন পরিবর্তন ঘটে। এ সময় কোমর ও পায়ের হাড়ে চাপ পড়ে, যা পরবর্তী সময়ে হাড় দুর্বল করে দেয়।এ ছাড়া মানসিক পরিবর্তনও শরীরকে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে,বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে অনেক মহিলার শরীরের নিচের অংশে মেদ জমে।
ফলে হাঁটু ও কোমরের ওপর বেশি চাপ পড়ে, যা গাঁটের ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সব মিলিয়ে,৪০-এর পর শরীরে প্রাকৃতিকভাবে কিছু পরিবর্তন আসবেই।তবে সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও হরমোন ভারসাম্য রক্ষা করে এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।








