কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক

0
22
ছবি সৌজন্যে : সোশ্যাল মিডিয়া

২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় যেমন বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নেমেছিল, তেমন পরিস্থিতির দিকে আবারও বিশ্ব এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, আমেরিকা -ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে বড় চাপ তৈরি করছে।

গ্লোবাল ইকোনমিক প্রস্পেক্টস রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাতে বাধ্য হয়েছে বিশ্বব্যাংক। আগে যেখানে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল, এখন তা কমে ২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক দেশকে বাড়তি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলেছে। সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। কিন্তু ইরানের অবরোধের কারণে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে তা কমে মাত্র ৫ থেকে ৭টিতে দাঁড়িয়েছে।

এর ফলে, শত শত জাহাজ প্রণালির বাইরে আটকে রয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৯৪ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। শুধু জ্বালানি নয়, এই সংকটের প্রভাব পড়ছে সারের বাজারেও। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় সারের দাম বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যের দামে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।