
হাঁটা সবচেয়ে সহজ শারীরচর্চাগুলির মধ্যে একটি। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, হাঁটা সহজ হলেও তা ভুল ভাবে করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
ভুল ভাবে হাঁটার ফলে পরবর্তী কালে ব্যথা হতে পারে পেশি, অস্থিসন্ধি, লিগামেন্ট বা টেন্ডনে। কিন্তু অনেকেই অজান্তে প্রতি দিন এক ভুল করে চলেন।এখন প্রশ্ন হলো,হাঁটার সময়ে কোন ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন? উত্তর হলো,ফোন দেখা।রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ফোন ঘাঁটা এখন খুব সাধারণ এক দৃশ্য।কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই বাড়ায় না,শরীরের ভঙ্গিও খারাপ হয়ে যায়।মাথা নিচু করে হাঁটলে ঘাড়, মেরুদণ্ড ও পিঠে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কুঁজো হয়ে হাঁটা, সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটা,ফোন দেখতে দেখতে হাঁটা, এ সবের ফলে শরীরের ভরকেন্দ্রে পরিবর্তন হয়। এর ফলেই ব্যথা শুরু হয়। তাই হাঁটার সময় মাথা সোজা রাখা, কাঁধ ঢিলে রাখা এবং মেরুদণ্ড স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।অন্যদিকে,শক্ত, আঁটোসাঁটো বা ভুল মাপের জুতো পরে হাঁটলে হাঁটার ছন্দ নষ্ট হতে পারে। এতে হাঁটু, গোড়ালি ও কোমরে চাপ পড়তে পারে। পায়ের আঙুল নাড়ানোর পর্যাপ্ত জায়গা থাকা জরুরি। তাই বুঝেশুনে জুতো বেছে নেওয়া দরকার। নয়তো উল্টে ক্ষতির পাল্লাই ভারী হবে।পাশাপাশি ধীরে, ছোট ছোট পা ফেলে হাঁটেন,চিকিৎসকদের মতে, এতে শরীরের পেশিগুলি ঠিক মতো সক্রিয় হয় না। নিতম্বের স্বাভাবিক চলনও বাধাপ্রাপ্ত হয়।গ্লুট্স এবং কোর পেশিতে এই প্রভাব প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে। এ দিকে এই দু’টি পেশিই মেরুদণ্ড এবং পেলভিসের ভার বহন করার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।ওদিকে,পা টেনে হাঁটার অভ্যাসে অনেক সময়ে হোঁচট খাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য এটি আরও বিপজ্জনক। চিকিৎসকদের মতে, হাঁটার সময় গোড়ালি থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পা ফেলা উচিত।আর,অনেকেই হাঁটার সময়ে হাত স্থির রেখে হাঁটেন। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে হাত দোলালে শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং হাঁটার ছন্দও উন্নত হয়। এতে ক্যালোরি খরচের পরিমাণও কিছুটা বাড়তে পারে।চিকিৎসকদের মতে, হাঁটা অত্যন্ত উপকারী এক ব্যায়াম অবশ্যই, কিন্তু তা বলে কেবল হাঁটার উপর ভরসা করা ঠিক নয়।
শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম, স্ট্রেচিং বা ভারসাম্যের অনুশীলনও জরুরি। তবে বয়স্কদের জন্য এই ব্যায়ামই উপযুক্ত।








