
বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি,এনসিপি-র সমাবেশ শেষে ফিরে আসার সময় কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও অন্তত ৫০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কার্ফু জারি করা হয়েছে। এদিকে, আওয়ামী লিগের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের সাত কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। শহরের সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং যানচলাচলও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছে।হামলার ঘটনার পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন।এ সময় পুলিশ-সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলেও তাঁর অভিযোগ। আর জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মুজিববাদীরা মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে, গোপালগঞ্জকেও কলুষিত করেছে।দ্বিগুণ গতিতে এর জবাব দেওয়া হবে। গোপালগঞ্জ শহর থেকে বাংলাদেশের অন্য সংবাদ মাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, শহরের পৌর পার্ক ও লঞ্চঘাট এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।দুপুরের দিকে যখন এনসিপি নেতাদের গাড়ি ওই এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করে, সেই সময় তাদের ওপর ইট-পাটকেল হামলা শুরু হয়। অবস্থা এমন হয় যে এন সি পি নেতাদের পুলিশ সাঁজোয়া গাড়ির মধ্যে নিয়ে যায় তাঁদের বাঁচাতে। এদিকে এমন পরিস্থিতিতে সারা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ব্লকেড কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এদিকে, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেছেন, ধৈর্য ধরে তারা গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, উচ্ছৃঙ্খলতা যা হয়েছে, সেটা যতটুকু সম্ভব ধৈর্যের সঙ্গে প্রশমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ঘটনায় সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে অপরাধী মনে করছে আওয়ামী লিগ। গোলমাল চলার সময় সেনা ছিল পুলিশের তুলনায় বেশি সক্রিয়। দেহ লক্ষ্য করে গুলি করে সেনা জওয়ানেরা। এই অবস্থায় গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
এনসিপির সমাবেশে বাধা দেওয়া মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে সরকার। হামলাকারীদের শাস্তি সরকার নিশ্চিত করবে বলে জানানো হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জে সহিংসতার যে ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।








