
পুজোর আগে বিপর্যস্ত হয়েছিল কলকাতা, জমা জলে মৃত্যুও হয়েছিল অন্তত ১০ জনের। পুজো মিটতেই বৃষ্টি ধসে ভয়াল পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গে।
মাত্র এক রাতের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দাজিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং। বৃষ্টি ধসে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। শুধু দার্জিলিংয়েই মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের।নাগরাকাটায় মৃত্যুর খবর মিলেছে ৪ জনের। নিখোঁজ অন্তত ২৫ জন।স্থানীয়দের দাবি এমন ভয়াবহ রূপ শেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৯৮ সালে। শনিবার রাতে বালাসন নদীর ওপর দুধিয়ার লোহার সেতু ভেঙে পড়ে। এর ফলে শিলিগুড়ি এবং মিরিকের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মিরিক, সুখিয়াপোখরির অবস্থা বেহাল। সৌরেনির কাছে দারাগাঁওয়ে গভীর রাতে ধস নামে। আপার দুধিয়া বা ডাম্ফেডার এলাকায় চার থেকে ৫ টি বাড়ি ধসে গিয়ে জলের তলায় চলে গিয়েছে। বেশ কিছু হোমস্টে-র ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর মিরিকে ৯, সুকিয়াপোখরিতে ৭ এবং বিজনবাড়ি এলাকায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে। ধস নেমেছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা কার্যত হোটেলবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের তরফে তাঁদেরকে হোটেলে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জিটিএ থেকে টাইগার হিল, রক গার্ডেনের মত এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ত্রাণশিবির তৈরি করা হচ্ছে দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন জায়গায়। সেখানে দুর্গতদের নিয়ে আসার কাজ শুরু করেছে এনডিআরএফ।কালিম্পং, কার্শিয়াংয়েও একই হাল। প্রবল বৃষ্টি, ধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রের তরফে ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরণের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীও আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর। মৃতদের পরিবারকে চাকরির আশ্বাসও দিয়েছেন।এদিকে উত্তরবঙ্গে বিপর্যয়ে রাজভবনে শান্তি কক্ষ পুনরায় সক্রিয় করেছেন রাজ্যপাল।
যে কোনওরমক পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রয়োজন হলে রাজভবনে শান্তি কক্ষে ফোন করলে সহায়তার চেষ্টা করা হবে। এজন্য টুয়েন্টি ফোর ইন্টু সেভেন হেল্পলাইন নম্বর খোলা থাকছে বলে রাজভবনের তরফে জানানো হয়েছে।








