
আমাদের শরীরের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। পেশি গঠন, হাড় মজবুত রাখা, টিস্যু রিপেয়ার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানা কিছুর জন্যই অপরিহার্য এই প্রোটিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন শরীরের ওজনের প্রতি কেজিতে অন্তত ০.৮ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন বা শারীরিকভাবে বেশি সক্রিয়, তাদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা বেড়ে যেতে পারে ১ থেকে ১.৩ গ্রাম পর্যন্ত।আবার অনেকে আছেন আমিষ খেতে চান না, তাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, প্রোটিন আসবে কোথা থেকে? এদিকে,ডাল, শস্য ও বাদামের পাশাপাশি অনেকেই সবুজ সবজির দিকেও ভরসা রাখেন। যদিও বেশির ভাগ সবজিতে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক কম, তবে একটি সবুজ সবজি আছে, যা এই ধারণা পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।পুষ্টিবিদদের মতে, সবচেয়ে বেশি প্রোটিনযুক্ত সবজির নাম এডামামে। এডামামে মূলত কচি সয়াবিন, যা জাপানিজ খাদ্য সংস্কৃতিতে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয়।এক কাপ রান্না করা এডামামে থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৮ গ্রাম প্রোটিন, যা অনেক প্রাণিজ উৎসের সঙ্গেও তুলনীয়। এই কারণেই বর্তমানে হাই প্রোটিন সবজি হিসেবে এডামামে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।এডামামে শুধু প্রোটিনেই সমৃদ্ধ নয়, এতে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। নিয়মিত এডামামে খেলে পেশি শক্তিশালী হয়, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দীর্ঘদিন কর্মক্ষম থাকা সম্ভব হয়।এতে থাকা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন শরীরে সহজে হজম হয় এবং এনার্জি লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এডামামে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের প্রদাহ কমায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সয়াবিন জাতীয় খাবার খেলে স্মৃতিভ্রংশ, হাড় ক্ষয় ও মানসিক অবসাদের ঝুঁকি কমতে পারে। তাই শুধু ফিটনেস নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও এডামামে অত্যন্ত উপকারী।এডামামের পাশাপাশি আরো কিছু সবজি রয়েছে যেগুলো তুলনামূলকভাবে প্রোটিনসমৃদ্ধ।যেমন পালং শাক, ব্রকলি, মটরশুঁটি ও কেল।যদিও এদের প্রোটিনের পরিমাণ এডামামের মতো বেশি নয়, তবু এগুলো শরীরকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।অন্যদিকে শসা বা লেটুসের মতো সবজিতে প্রোটিনের পরিমাণ খুবই কম, সাধারণত এককাপের মধ্যে ১ গ্রামেরও কম। তবে এগুলোকেও অবহেলা করা উচিত নয়। এই সবজিগুলো শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি হলো খাদ্যের বৈচিত্র্য। শুধু একটি সবজির ওপর নির্ভর না করে, বিভিন্ন রঙের এবং বিভিন্ন পুষ্টিগুণের সবজি খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। তাতে শরীর পায় প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার,সব একসঙ্গে।









