
সকালে লেবু মেশানো গরম জল, তারপর ক্র্যানবেরি স্মুদি, একটু পর গ্রিন টি—শুনতে ভীষণ স্বাস্থ্যকর মনে হলেও দন্ত চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসগুলো দাঁতের জন্য সব সময় ভালো নাও হতে পারে।
কারণ এদের অনেকগুলোতেই থাকে এসিড, যা ধীরে ধীরে দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে আসলে এনামেল হলো দাঁতের সবচেয়ে শক্ত বাইরের আবরণ। এটি দাঁতকে গরম-ঠাণ্ডা, অ্যাসিড ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।কিন্তু সমস্যা হলো, এনামেল একবার ক্ষয়ে গেলে তা আর স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসে না। ফলে দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে, সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং ক্যাভিটির ঝুঁকি বেড়ে যায়।এই অবস্থায় দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব খাবারে অ্যাসিড বেশি, সেগুলো নিয়মিত খেলে এনামেল নরম হয়ে ধীরে ধীরে উঠে যেতে পারে।লেবু ও সাইট্রাস ফল,লেবু, কমলা, মাল্টা—এ ধরনের ফলে ভিটামিন সি থাকলেও অ্যাসিডের মাত্রাও বেশি।নিয়মিত খেলে দাঁতের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।বেরিজাতীয় ফল,ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি—এসব ফলেও প্রাকৃতিক অ্যাসিড থাকে, যা এনামেল ক্ষয়ে সাহায্য করে।টক ফল ও সবজি,টমেটো, তেঁতুল, আমলকী, কামরাঙা, কুল, আমড়া—এসব খাবারও দাঁতের এনামেলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।আর অতিরিক্ত টকযুক্ত খাবার, যেমন আচার, সম্বর, টক চাটনি নিয়মিত খেলে দাঁতের ক্ষয় দ্রুত হতে পারে।এখন প্রশ্ন হলো,এনামেল ক্ষয়ের লক্ষণ কী।উত্তর হলো,দাঁতে হলুদ ছোপ পড়া,দাঁতের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া,ঠাণ্ডা বা গরম খাবারে শিরশিরে অনুভূতি,দাঁত দ্রুত ক্ষয়ে যাওয়া এগুলো সাধারণত ধীরে ধীরে দেখা দেয়, তাই অনেকেই শুরুতে গুরুত্ব দেন না।এখন প্রশ্ন হলো,কিভাবে দাঁতের এনামেল রক্ষা করবেন।উত্তর হলো,টক বা অ্যাসিডযুক্ত খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করবেন না, এতে নরম হয়ে যাওয়া এনামেল আরো দ্রুত ক্ষয়ে যায়। অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন, এটি এনামেলকে শক্ত রাখতে সাহায্য করে।অ্যাসিডিক পানীয় খেলে স্ট্র দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন, যাতে দাঁতের সংস্পর্শ কম হয়।সেইসঙ্গে নিয়মিত দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে দাঁতে সংবেদনশীলতা শুরু হলে।শেষে বলা যায়, সব টক খাবারই একেবারে বন্ধ করতে হবে—এমন নয়।
কিন্তু বারবার এবং অসতর্কভাবে খাওয়া দাঁতের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। তাই খাবারের পাশাপাশি দাঁতের যত্নেও সমান নজর দেওয়া জরুরি। আর সুস্থ হাসি বজায় রাখতে সচেতন থাকুন সব সময়।









