
হেগের আদালতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন মোড়
হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। একই সঙ্গে, প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালেন্টের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পদক্ষেপ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত হামাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের সেনা প্রধান হোমাম্মেদ ডেইফসহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। নেদারল্যান্ডসে গেলে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে কোনো দেশের জন্য প্রযোজ্য। এই সিদ্ধান্ত গাজার পরিস্থিতিতে হত্যালীলা নিয়ে রায় দিতে গিয়ে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া
নেতানিয়াহু এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন যে এর কোনো গুরুত্ব নেই। তিনি দাবি করেছেন যে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, গ্যালেন্ট মন্তব্য করেছেন যে হেগের আদালতের এই বিচার স্মৃতিতে থেকে যাবে এবং এটি ইসরায়েল ও হামাস উভয়ের জন্যই একটি সংকটজনক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে। তিনি বলেন, “এই রায় হামাসের সহিংসতাকে সমর্থন করে,” উল্লেখ করে শিশুদের হত্যা ও নারীদের নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
বিশ্ব রাজনীতির প্রতিক্রিয়া
এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছেন যে তিনি এই রায়কে সম্মান জানাবেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন মতবিরোধ সৃষ্টি করছে। এভাবে দেখা যাচ্ছে যে বিশ্ব রাজনীতি এখন এক নতুন মোড়ে প্রবেশ করেছে যেখানে মানবাধিকারের প্রশ্নগুলো আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এবং এর ফলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্কও প্রভাবিত হচ্ছে。









