
অনেকসময় দেখা যায় অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে কাজ করছেন, হঠাৎ চোখে চুলকানি শুরু হলো। বিষয়টা অস্বস্তিকর হলেও খুব সাধারণ।
আসলে , এসি চলা ঘরে দীর্ঘ সময় কাটালে চোখে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি বাতাসের আর্দ্রতা শুষে নেয়, ফলে ঘরের বাতাস হয়ে পড়ে শুষ্ক। র বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের চোখে। এই অবস্থাকে বলা হয় ,ইভাপোরেটিভ ড্রাই আই।সাধারণতঃ আমাদের চোখের পাতায় থাকা বিশেষ গ্রন্থি থেকে জলীয় ও স্নেহপদার্থ,লিপিড ক্ষরিত হয়, যা চোখের পাতাকে স্যাঁতসেঁতে ও সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু দীর্ঘ সময় এসিতে থাকলে এই গ্রন্থিগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এমনকি চোখের অশ্রুগ্রন্থিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এর ফলেই চোখে দেখা দেয় শুষ্কতা, চুলকানি ও অস্বস্তি। এখন প্রশ্ন হল কি ভাবে আপনি বুঝবেন ড্রাই আই সমস্যায় ভুগছেন? উত্তর হল,দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া,মাঝে মাঝে চোখের সামনে সবকিছু অস্পষ্ট হয়ে গেলে তা ড্রাই আই-এর লক্ষণ হতে পারে।অকারণে চোখ দিয়ে পানি পড়লেও এটি ড্রাই আই-এর ইঙ্গিত হতে পারে। চোখ শুকিয়ে গেলে শরীর নিজেই বেশি জল তৈরি করে সেটা সামলাতে চেষ্টা করে। চোখে পলক ফেলার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা থেকে চোখে চাপ পড়ে ও ক্লান্তি আসে।এই অবস্থায়,চোখ পরিষ্কার রাখুন,ধুলোবালি জমতে দেবেন না। বাইরে থেকে এলে ঠাণ্ডা জল দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন। তবে দিনে ২–৩ বার চোখে জল দেওয়া যথেষ্ট, বেশি করলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে।সেইসঙ্গে একটানা ১০–১২ ঘণ্টার বেশি লেন্স পরে থাকা উচিত নয়।কম্পিউটারের স্ক্রিন থেকে মাঝে মাঝে চোখ সরান,দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে না তাকিয়ে মাঝে মাঝে বিরতি নিন। চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড বিশ্রাম দিন।পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া চোখ ও শরীর,দুটোর জন্যই জরুরি।
শসা, তরমুজ, স্ট্রবেরি ইত্যাদি জলযুক্ত ফল বেশি করে খান।চোখে গরম সেঁক দিন,নরম কাপড়ে গরম জল ভিজিয়ে দিনে ২–৩ বার চোখে সেঁক দিন। এতে চোখের আরাম মিলবে, ব্যথা কমবে ও ক্লান্তি দূর হবে।









