
আনন্দপুরে আরবানার মত অভিজাত আবাসনের পাশে নাজিরাবাদে জোড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর একদিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এখনও সেখানে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। ধিকি ধিকি আগুন জ্বলছে। আনন্দপুর একেবারে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। স্বজন হারানো কান্না আর মানুষের দেহের পোড়া গন্ধে ভাসছে আকাশ-বাতাস।
একদিকে যখন বাবা-দাদা, স্বামী কিংবা পরিবারের অন্য কোনও সদস্যকে খুঁজতে অস্থির অনেকে, অন্যদিকে তখন আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দলকলকর্মীরা। এ দিকে ও দিকে ধিকিধিকি আগুন জ্বলছে। কোথাও আবার ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে বেরোচ্ছে কালো ধোঁয়া।ঝলসানো আটটি দেহাংশ ইতিমধ্যেই উদ্ধার হয়েছে। দেহাংশগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিতরে এখনও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মৃতের সংখ্যা নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে ক্রমশ, উদ্বেগ বাড়ছে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও।মঙ্গলবার সকালে নিখোঁজ এক কর্মীর আত্মীয় ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ করেছেন , জল দেওয়া ছাড়া দমকল কিছুই করতে পারছে না। নিজেদের পরিচিতদের দেহ হয়তো নিজেদেরকেই খুঁজে নিতে হবে! এদিকে ঘটনাস্থলে এত লোকের ভিড় হওয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।
তবে আগুন সম্পূর্ণ নেভানো না গেলে উদ্ধারকাজে গতি আসবে না বলেই মনে করছেন দমকলকর্মীরা। সবকিছুর মাঝেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নিখোঁজদের পরিজনেরা। তাঁদের আক্ষেপ, চরম অব্যবস্থা আর নজরদারির গাফিলতির মূল্য দিতে হল অনেকগুলো প্রাণ দিয়ে।







