
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার আগেই নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এর মধ্যেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,ইরান ও আমেরিকা,দু’ পক্ষকেই তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতির কথা হয়েছে, তা যেন লেবাননসহ সব সংঘর্ষের জায়গায় কার্যকর করা হয়।
তিনি এই আশা ব্যক্ত করার সময়ও লেবাননের বেইরুটেতে ইসরায়েলের হামলা চলছিল। অন্যদিকে আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে কার্যকর হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ব্রিসবেনে তিনি বলেছেন, তার সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে এই শান্তি প্রক্রিয়া কেবল নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা জরুরি। বর্তমান এই যুদ্ধবিরতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও আলবানিজ একে অত্যন্ত ভঙ্গুর শান্তি বলে সতর্ক করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সাময়িক পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী চুক্তির পথ প্রশস্ত করে।এর আগে আমেরিকা ও ইরান দু’ সপ্তাহের জন্য সংঘাত থামাতে রাজি হয়। এতে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি টেকেনি। এর আগে, লেবাননে তীব্র হামলা চালায় ইসরায়েল। গত মাসে হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই শুরুর পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় হামলা। এতে ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। ইসরায়েল ও আমেরিকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন নেই। এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ভিন্ন কথা বলেছে। তাদের দাবি, এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে বেইরুটও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এদিকে ইরানও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। মধ্যস্থতাকারীদের তারা জানিয়েছে,আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধবিরতির আওতায় অবশ্যই লেবাননকে রাখতে হবে।
ম্যাখোঁ জানিয়েছেন,তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তাদের স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত না করলে কোনো যুদ্ধবিরতিই বিশ্বাসযোগ্য বা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। শুধু তাই নয়, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে আরো কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ, তেহরানের ভূমিকা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা।









