
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথে হেঁটেই মহারাষ্ট্র জয় বিজেপির! শুধু আরব সাগরের তীরের রাজ্য কেন, হরিয়ানা-মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যেও বিজেপির ডুবন্ত নৌকাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেত্রীর গেম প্ল্যানই। ঝাড়খণ্ডকেও কৃতজ্ঞ থাকতে হবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই।
শুরুটা হয়েছিল কর্নাটক থেকে।ভোটে জিতলে রাজ্যের মহিলাদের মাসিক ২ হাজার টাকা দেবে কংগ্রেস। সেই প্রতিশ্রুতিতে মিলেছিল সাড়াও। দক্ষিণের রাজ্যটি এসেছিল কংগ্রেসের দখলে। এর পর থেকেই একের পর এক রাজ্যে বিজেপি-কংগ্রেস দুদলই ,রেউড়ি’র ঘোষণা করেছে।মধ্যপ্রদেশে পদ্ম ফোটাতে সেই চেনা ছকেই হেঁটেছিলেন শিবরাজ সিং চৌহান। মধ্যপ্রদেশে নির্বাচনের মাসছয়েক আগে লাডলি বেহনা প্রকল্প শুরু করে বিজেপি। বার্ষিক আড়াই লক্ষ টাকার কম আয় থাকা পরিবারের মহিলাদের হাতে প্রতি মাসে ১ হাজার ২৫০ টাকা দেওয়া শুরু হয়।জম্মু-কাশ্মীরেও মহিলাদের নগদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বি জে পি।
একটু খতিয়ে দেখলে দেখা যাচ্ছে এবার মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ড ভোটের ফলের পিছনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে মহিলা ভোট।যা কার্যত স্বীকারও করে নিয়েছেন মহাজুটি জোটের অন্য়তম নেতা তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। ২০২৪ সালের জুনে মহারাষ্ট্রের মহাজুটি সরকার লড়কি বহিন যোজনা শুরু করেন। এই প্রকল্পে ২১ থেকে ৬৫ সাল বয়স পর্যন্ত মহিলাদের মাসে দেড় হাজার টাকা দেওয়া হয়। এবার নির্বাচনের ইস্তাহারে লড়কি বহিন যোজনায় মহিলাদের মাসে ২ হাজার ১০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিরোধী জোট মহাবিকাশ আঘাড়িও মহিলাদের আর্থিক সাহায্যে প্রতিশ্রুতি দেয় ইস্তাহারে। বলা হয়, ক্ষমতায় এলে মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,মহিলাদের হাতে মহাজুটি সরকারের নগদ টাকা দেওয়ার প্রকল্প প্রভাব ফেলেছে ভোটে। মহাবিকাশ আঘাড়ি প্রতিশ্রুতি দিলেও যেহেতু একনাথ শিন্ডের সরকার ইতিমধ্যে টাকা দেওয়া শুরু করেছে, তাই ভোটে তার সুবিধা পেয়েছে তারা। মহাজুটি জোটের অন্য়তম নেতা তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারও বলেছেন, এই নির্বাচনে গেম চেঞ্চার হয়ে দেখা দিয়েছে লড়কি বহিন যোজনা।
অন্যদিকে,মহিলা ভোটের প্রভাব দেখা গিয়েছে ঝাড়খণ্ডেও। রাজনীতিবিদরা বলছেন, এর পিছনে রয়েছে মহিলাদের জন্য হেমন্ত সোরেন সরকারের মাইয়া সম্মান প্রকল্প। এই প্রকল্পে মহিলাদের মাসে ১ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এই বছরের অগস্টের প্রথমে এই প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। মাত্র কয়েকমাস আগে এই প্রকল্প চালু করলেও মহিলারা হেমন্ত সোরেনকেই সমর্থন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ভোটের প্রচারে মোদী, অমিত শাহেরা ধারাবাহিক ভাবে বাংলাদেশি অনুপ্রদেশের অভিযোগ করেছেন। নাম না করে নিশানা করেছেন একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে।স্লোগান দিয়েছেন, এক হ্যায় তো সেফ হ্যায়। কিন্তু ভোটের ফলে স্পষ্ট যে, ওবিসি, দলিত এবং আদিবাসী ভোট পাওয়ার লক্ষ্যে তাঁদের সেই কৌশল সফল হয়নি। বরং আদিবাসী মনে ছাপ ফেলেছে হেমন্ত সোরেনের পাল্টা প্রচার। প্রতিটি সভায় তিনি নিয়ম করে বলেছেন, অনুপ্রবেশের কথা বলে বিজেপি এখানে সিএএ চালু করতে চাইছে। সেটা করে ওরা আদিবাসীদের জমি ছিনিয়ে নেবে। যত দিন আছেন, ঝাড়খণ্ডে সিএএ-এনআরসি চালু করতে দেবেন না।
একটু পিছিয়ে দেখলে দেখা যাবে,একুশের বিধানসভা ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে জিতেই কার্যকর করেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। যা নিঃসন্দেহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাস্টারস্ট্রোক। মাসে মাসে সরাসরি মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে টাকা। প্রথমে মাসিক ৫০০ এবং ১ হাজার টাকা দিত রাজ্য সরকার। তার পর তা বাড়িয়ে করা হয় ১ হাজার এবং ১২০০ টাকা। আর এই সরকারি সুবিধা ভবিষ্যতেও পাওয়ার জন্য মহিলারা ঢালাও ভোট দেন তৃণমূল কংগ্রেসকে।
একচেটিয়া বিরোধীরা তৃণমূল কংগ্রেসের খয়রাতি রাজনীতির নিন্দা করলেও সময় বুঝিয়ে দিয়েছে, তৃণমূল নেত্রীর এই পদক্ষেপ কতটা সময়পযোগী ছিল। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই হাঁটছে বিজেপি, কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দলগুলি।
ছবি সৌজন্যে : রিপ্রেসেন্টেশনাল









